শিরোনাম
◈ ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা ◈ ভারতের বিদ্যুৎ করিডরের জন্য বাংলাদেশের ভূমি, দিল্লিকে ৪ শর্ত ঢাকার ◈ পাঁচ বছরেই বদলে যাবে অর্থনীতির চিত্র, মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে ছাড়াবে বাংলাদেশ: আইএমএফ ◈ শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান: বাংলাদেশ-চীনের কারিগরি সহযোগিতায় নতুন অধ্যায় ◈ বড় দুঃসংবাদ লোডশেডিং নিয়ে! ◈ চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে ডুবে একসঙ্গে ৫ শিশুর মৃত্যু ◈ হামের উপসর্গে আরও ৫ প্রাণহানি, মোট মৃত্যু ৯৬০ ◈ নভেম্বরে তুরস্ক সফর করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী ◈ বাংলাদেশে ঢুকে বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি, ভারতীয় নাগরিক আটক ◈ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার মধ্যেই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া

প্রকাশিত : ০১ জুন, ২০২৬, ০৬:৪২ বিকাল
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চারঘাটে বিয়ের দাবিতে যুবতীর অনশন, অভিযুক্তের পরিবার পলাতক

ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর এলাকায় বিয়ের দাবিতে এক যুবতী (২০) যুবকের বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন। রোববার (৩১ মে) দুপুর ৩টা থেকে তিনি এই অনশন চালান। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক তাইজুল ইসলাম (২৫) এবং তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি তালাবদ্ধ করে পালিয়ে গেছে। অভিযুক্ত তাইজুল ইউসুফপুর গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে।

ভুক্তভোগী যুবতী জানান, প্রায় ১০ মাস আগে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করার সময় তাইজুলের সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাইজুল তার সাথে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

আজ (রোববার) তাদের বিয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত কথা বলার দিন ধার্য ছিল। এ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশী বৈঠকও বসে। কিন্তু তাইজুল ও তার পরিবার স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। যুবতীর অভিযোগ, বর্তমানে তাইজুল তাকে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাকে স্ত্রী হিসেবে মর্যাদা না দিলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় থাকবে না।"

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অভিযুক্ত তাইজুলের বিরুদ্ধে এর আগেও একই ধরনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ইতিপূর্বেও সে স্থানীয় এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করেছে বলে তারা জানান। এলাকার সচেতন মহল এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

এই বিষয়ে আইনগত ব্যাখ্যা দিয়ে অ্যাডভোকেট রজব আলী জানান: বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সম্মতি আদায় করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করাও ধর্ষণের শামিল। ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা অনুযায়ী ধর্ষণের সংজ্ঞা ও অপরাধের ধরণ নির্ধারণ করা হয় এবং প্রমাণিত হলে অপরাধীর কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।"

বিষয়টি নিয়ে চারঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)- আব্দুল মালেক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কিছুটা অনীহা প্রকাশ করেছে। ওসি প্রতিবেদককে বলেন, "মেয়ের বাবা-মাকে খবর দিয়ে তাদের হাতে বুঝিয়ে দিন।" তবে ভুক্তভোগী পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সালিশ কমিটির বক্তব্য

এ বিষয়ে ইউসুফপুর স্থানীয় সালিশ কমিটির সভাপতি আফাজ উদ্দিন মন্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন: ​"আমি নিজে অভিযুক্ত তাইজুল এবং তার বাবা হালিমকে ডেকে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করেছি। তাদের বুঝিয়ে সুঝিয়ে বিয়ের জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করলেও তারা উভয়েই আমার কথার কোনো কর্ণপাত করেনি। উল্টো তাইজুল দাবি করেছে, স্থানীয় অন্য এক মেয়ের সাথে তার সম্পর্ক রয়েছে এবং সে তাকেই বিয়ে করবে।"

তিনি আরও বলেন, "ছেলেটির চরিত্রগত সমস্যা রয়েছে এবং সে ইতিপূর্বেও এই ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা মেয়ের পরিবারকে কোনো রকম সময় নষ্ট না করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।"

(সংবাদের সংবেদনশীলতা রক্ষার্থে ভুক্তভোগীর নাম ও নির্দিষ্ট পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে)

  • সর্বশেষ