ফারুকুজ্জামান, কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে চলছে লিচুর ভরা মৌসুম, যেখানে গ্রামের নামেই লিচুর পরিচিতি। গাছে গাছে ঝুলছে লাল টুকটুকে লিচুর থোকা। দৃষ্টিনন্দন এমন দৃশ্য দেখতে এবং লিচু কিনতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন ভিড় করছেন ক্রেতারা।
মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের রাস্তার দুই পাশজুড়ে এবং বাড়ির আঙিনায় ছোট-বড় অসংখ্য লিচু গাছ। ভরা মৌসুমে পুরো গ্রাম যেন লাল-সবুজের এক উৎসবের রূপ নিয়েছে। সুস্বাদু, রসালো ও সুগন্ধি হওয়ায় মঙ্গলবাড়িয়ার লিচুর কদর রয়েছে দেশজুড়ে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুইশ বছরের পুরনো এই লিচুর ঐতিহ্য এখনও ধরে রেখেছে গ্রামটি। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলনও হয়েছে বাম্পার। অধিকাংশ লিচু সরাসরি বাগান থেকেই কিনে নিচ্ছেন পাইকার ও খুচরা ক্রেতারা।
বর্তমানে প্রতি ১০০টি লিচু বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। প্রতিদিনই ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা ছুটে যাচ্ছেন মঙ্গলবাড়িয়ায়।
এদিকে, লিচু চাষে বদলে গেছে গ্রামের অনেক পরিবারের জীবনযাত্রা। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে নতুন বাগান ও চাষির সংখ্যা। বর্তমানে গ্রামটিতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার লিচু গাছ রয়েছে এবং এ চাষের সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রায় ২০০ পরিবার।
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে এ লিচু গ্রামে আসা সুমাইয়া আক্তার বলেন, আমার স্বামীর সঙ্গে এ নিয়ে তিন মৌসুম ধরে আসা। ঘুরে ঘুরে দেখছি, যে গাছের লিচু বেশি পছন্দ হবে সে গাছ থেকে লিচু কিনবো। এখানে শুধু লিচু কিনতেই আসা নয়, এত সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করতেও আসি আমি। গ্রামে ঢোকার পর থেকে যেদিকেই তাকানো যায় সেদিকেই গাছে লাল রঙের রসালো লিচু ঝুলছে।
পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-ই-আলম জানান, লিচুর আবাদ থেকে শুরু করে বাজারজাত পর্যন্ত কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দেয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারদর স্থিতিশীল থাকলে এবার মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে প্রায় ১২ কোটি টাকার লিচু বিক্রি সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা।