শিরোনাম
◈ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন ৩ জুলাই, এফডিসিতে এজিএম ১২ জুন ◈ প্লেনের ফাঁক-ফোঁকরে যেভাবে স্বর্ণ পাচার হয় ◈ সমুদ্রের নিচে বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক এআই ডেটা সেন্টার চালু করলো চীন ◈ ফের অশান্ত কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ◈ দে‌শের প্রথম ব‌্যাটার মুশ‌ফিকুর র‌হি‌মের ১৬ হাজার রানের মাইলফল ◈ বাংলাদেশে কবে ঈদুল আজহা, জানাল চাঁদ দেখা কমিটি ◈ যশোর জেলায় কোরবানির চাহিদার চেয়ে ১৪ হাজার পশু বেশি ◈ জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা: জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে কোনো আয়োজন করা যাবে না  ◈ কুরবানির আগে নতুন নিয়মে বিপাকে পশ্চিমবঙ্গের ঘোষপাড়ার হিন্দু খামারিরা: ‘মুসলমানরা নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরাই’ ◈ ইরান যুদ্ধের প্রভাব: সোশাল মিডিয়া পোস্টে কুয়েত-বাহরাইনে গ্রেফতার, বাতিল হচ্ছে ৬৯ জনের নাগরিকত্ব

প্রকাশিত : ১৮ মে, ২০২৬, ০৩:১৭ দুপুর
আপডেট : ১৮ মে, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যশোর জেলায় কোরবানির চাহিদার চেয়ে ১৪ হাজার পশু বেশি

আজিজুল হক, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: এবার পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যশোরে চাহিদার তুলনায় ১৪ হাজার বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত করেছেন খামারি ও কৃষকরা। 

জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলার ৮ উপজেলায় মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৯৭টি পশু কোরবানির হাটে তোলার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বিপরীতে জেলার মোট চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ১২৮টি পশু। সে হিসেবে চাহিদার তুলনায় ১৪ হাজার ৮৬৯টি পশু বেশি রয়েছে।

গত বছরও যশোরে চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৯ হাজার পশু বেশি ছিল। এবার প্রস্তুত করা পশুর মধ্যে রয়েছে ২৮ হাজার ৮৪৪টি ষাঁড়, ৯৫৭টি বলদ, ৬ হাজার ৪৫৮টি গাভী, ৮১ হাজার ২৭৬টি ছাগল এবং ৪৪২টি ভেড়া।

চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত হওয়ায় ইতোমধ্যে গরু ও ছাগলের বাজারে দামের কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এতে ক্রেতারা সন্তুষ্ট হলেও উদ্বেগে পড়েছেন খামারি ও কৃষকরা।

যশোরের সবচেয়ে বড় গরু খামার ব্যবসায়ী শার্শা উপজেলার পুটখালি ইউনিয়নের গরু খামার ব্যবসায়ী নাসির উদ্দীন। ১০ বছর আগেও তিনি চোরাচালান ব্যবসার গড ফাদার ছিলেন। তবে এখন পেশা পালটিয়ে গরু খামার গেছেন। তিনি জানান, এবার তার খামারে ৩০০ বেশি উন্নত জাতের ষাঁড় লালন-পালন করেছেন। এছাড়া ৫টি উটও আছে। যার দাম প্রতিটি ২৫ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।

প্রতিটি গরুর ওজন ৫০০ থেকে ১২০০ কেজির উপরে। ৩ থেকে ১০ লাখ টাকা দামে৷ গরুও আছে। সবুজ ঘাস, ভুট্টা ও গমের ভুসি খাইয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে গরুগুলো মোটাতাজা করা হয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর কোরবানির ঈদের আগে শেষ সময়ে হাটে ক্রেতা কম ছিল। এতে কম লাভে বাধ্য হয়ে গরু বিক্রি করতে হয়েছিল। তবে এবারও মোটামুটি ভালো দাম পাব আশা করছি।

শার্শার ধলদা গ্রামের হাসেম আলী জানান, এবার ১০ টি গরু কোরবানির হাটে তোলার জন্য প্রস্তুত করেছেন। তিনি বলেন, গত বছর অনেক গরু অবিক্রিত ছিল। কেউ কেউ কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। ছোট খামারিরা ন্যায্য মূল্য পাননি। তিনি আরও বলেন, “খড়, ভুসি, ভুট্টা, ওষুধ ও পরিবহন ব্যয় কয়েক বছরে অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় গরুর দাম বাড়েনি। এতে ক্ষুদ্র খামারিদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দীকুর রহমান জানান, খামারিদের বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং শুধুমাত্র দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভর না করে কাঁচা ঘাসের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে উৎপাদন খরচ কমে।

তিনি আরো বলেন, সবব খামারি কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পশু প্রস্তুত করেন। ফলে একই সময়ে বাজারে পশুর সরবরাহ বেড়ে যায় এবং দাম কমে যায়। বছরে অন্যান্য উৎসব ও সময়কে কেন্দ্র করেও পশু লালন-পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোরবানির হাটে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কঠোর নজরদারি থাকবে। প্রতিটি হাটে ভেটেরিনারি টিম দায়িত্ব পালন করবে এবং অসুস্থ পশু, পেটে বাচ্চা থাকা গাভী বা অস্বাস্থ্যকর উপায়ে মোটাতাজা করা পশু বিক্রি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, কোরবানির হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে সবাই নির্বিঘ্নে কেনাবেচা করতে পারেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়