শিরোনাম
◈ যৌন হয়রানির অপরা‌ধে ৫ বছর নিষিদ্ধ গায়ানা ফুটবল কর্মকর্তা ইয়ান আলভেস ◈ সীমান্তে ভারতীয় ড্রোন পড়ে আতঙ্ক, বিজিবির হেফাজতে উদ্ধার করা হয়েছে ◈ টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে আটে বাংলাদেশ ◈ চীনের নেতৃত্বাধীন বাণিজ্যিক জোট আরসেপে যোগ দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ ◈ সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৩৮ অডিট রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর ◈ দেশের ইতিহাসে এত চমৎকার নির্বাচন আগে কখনো হয়নি: সেনাপ্রধান ◈ এক বছরের মধ্যেই সব ধাপের স্থানীয় সরকার নির্বাচন: মির্জা ফখরুল ◈ শাপলা চত্বর মামলা: ৫৮ জন নিহত, প্রধান আসামি শেখ হাসিনা ◈ হরমুজে আটকে থাকা জাহাজের সংখ্যা প্রায় ২০০০! ◈ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া: বাণিজ্যমন্ত্রী (ভিডিও)

প্রকাশিত : ০৪ মে, ২০২৬, ০৬:৩০ বিকাল
আপডেট : ০৫ মে, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় দুঃস্বপ্ন, ভাঙ্গার যুবকের ২৪ লাখ টাকা লুট

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে লিবিয়ায় পাচার করে নির্যাতন চালিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগে জানা যায়, ভাঙ্গা উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের দীঘলকান্দা গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর মাতুব্বরের ছেলে সবুজ মাতুব্বরকে বৈধভাবে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেন একই গ্রামের তাহিদ মাতুব্বর। পরে তাহিদের নেতৃত্বে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সবুজকে লিবিয়ায় নিয়ে যায়।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন চক্রের মূলহোতা তাহিদ মাতুব্বর (৩৫), তার মা কহিনুর বেগম, ভাই সহিদ মাতুব্বর ও বোন লিটা বেগমসহ আরও কয়েকজন। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ইতালি পাঠানোর কথা বলে প্রথমে ১৯ লাখ টাকা নেয় চক্রটি। এরপর গত ২০২৫ সালের ২ জুলাই সবুজকে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে আরও ৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ মাস ধরে লিবিয়ায় অবৈধভাবে আটকে রেখে নির্যাতনের পর গত ৫ ডিসেম্বর সবুজকে স্থানীয় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে ৩৮ দিন কারাভোগের পর তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

সবুজের বাবা লুৎফর মাতুব্বর বলেন, “লিবিয়ায় অবস্থানরত তাহিদের নির্দেশে তার পরিবারের সদস্যরা দেশে বসেই পুরো অর্থ লেনদেন ও বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করত। আমরা ধার-দেনা করে মোট ২৪ লাখ টাকা দিয়েছি। এখন আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা নেওয়ার পরও চক্রটি পুনরায় ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করে এবং পরে আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করে।

লুৎফর মাতুব্বর বলেন, “আমার মতো আরও অনেক পরিবার এই চক্রের প্রতারণার শিকার। কেউ কেউ লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার পথে সাগরে নিখোঁজ হয়েছেন বলেও শুনেছি। আমি আমার টাকার ফেরত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আল আমিন জানান, বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার একটি অভিযোগ তারা পেয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়