শিরোনাম
◈ তাবলিগের শীর্ষ মুরুব্বি মাওলানা ফারুকের ইন্তেকাল ◈ আরও ১৭১ খেলোয়াড় ক্রীড়া কার্ড পেলেন ◈ ওয়াশিংটনের দাবিকে ‘অবাস্তব’ আখ্যা, আলোচনায় না যাওয়ার ঘোষণা ইরানের ◈ যে জেলায় আগের দামেই মিলছে জ্বালানি তেল! ◈ ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন শেয়ার করায় গ্রেফতারের পর কারাগারে, সংসদে হাসনাত ও চিফ হুইপের মধ্যে বিতর্ক ◈ জোট শরিকরা সংরক্ষিত নারী আসনে কে কতটি পেল জামায়াত থেকে ◈ বিদ্যুৎ খাতে ৫২ হাজার কোটি টাকা বকেয়া, ঋণের বোঝা দেড় লাখ কোটি: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ◈ বাসে ৬৪ শতাংশ, লঞ্চ ভাড়া দেড়গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব ◈ ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে পৌঁছাল মার্কিন দল ◈ সোমবার বগুড়ায় যাত্রা, ‘ই-বেইল বন্ড’ চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:৩১ রাত
আপডেট : ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিএসএফের তথ্যের পর নড়েচড়ে বসে বিজিবি: সীমান্ত পেরিয়ে ২০০ গরু, পরে জরিমানা নিয়ে প্রশ্ন

ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর সীমান্তবর্তী চরখানপুর এলাকায় প্রায় ২০০টি গরু চরতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে ভারতীয় সীমানায় প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) প্রথমে বিষয়টি শনাক্ত করে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে অবহিত করে। পরে বিজিবি গরুগুলো ফেরত এনে জরিমানা আদায় করে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) পদ্মা নদীর ওপারে চরখানপুরের ৬০ বিঘা চরে একদল রাখাল গরু চরাচ্ছিল। ঘাস খেতে খেতে গরুগুলো অজান্তেই ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে ঢুকে পড়ে। বিষয়টি বিএসএফ সদস্যদের নজরে এলে তারা ছবি তুলে বিজিবিকে অবহিত করেন।

খবর পেয়ে চরখানপুর বিজিবি ক্যাম্পের ইনচার্জ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গরুগুলো বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনেন। পরে গরুর মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ‘খোয়াড়’ বাবদ জরিমানা আদায় করা হয়।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ঘটনাস্থলে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে তারা অভিযোগ করেন, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষজন দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাদের দাবি, অধিকাংশ পরিবারই কৃষিনির্ভর এবং প্রতিটি বাড়িতে ৫ থেকে ১০০টি পর্যন্ত গরু রয়েছে। এসব গরুর দুধ দিয়েই রাজশাহী শহরের বড় একটি অংশের চাহিদা পূরণ হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তে পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে এমন ঘটনা ঘটলেও আগে থেকে কোনো সতর্কতা দেওয়া হয়নি। বরং পরে গরু ধরে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গরুপ্রতি ১০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি বিজিবি সদস্যদের হাতেই টাকা দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী গরুর মালিক মেরাজুল, সিজান, চনা, হুমা, আনারুল ও আজিমসহ কয়েকজন বলেন, তারা সীমান্তের জটিল নিয়ম-কানুন সম্পর্কে অবগত নন। তাদের অভিযোগ, সতর্ক করার পরিবর্তে বিজিবি পরবর্তীতে আর্থিক জরিমানা আরোপ করেছে।

এদিকে বিজিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জরিমানার টাকা খোয়াড়ের ইজারাদারের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে। তবে খোয়াড়ের মালিক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং সরাসরি কোনো টাকা আদায় করেননি। পরে গ্রামের লোকজন হিসাব করে তাকে ১২ হাজার ৩০০ টাকা দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১৮০টি গরুর বিপরীতে মোট প্রায় ২০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। তবে বিজিবি দাবি করছে, ১২০টি গরুর জন্য ১২ হাজার টাকা জরিমানা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

চরখানপুর বিজিবি ক্যাম্পের ইনচার্জ সুবেদার সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে ১৫ এপ্রিলের ঘটনা ১৭ এপ্রিল খাতায় এন্ট্রি করা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, সীমান্তে নিয়মিত টহলের দায়িত্বে থাকা বিজিবি কেন আগে থেকে বিষয়টি শনাক্ত করতে পারেনি? কেন বিএসএফ জানানোর পর ব্যবস্থা নেওয়া হলো? একইভাবে, ঘটনার পরদিন জরিমানা আদায় এবং পরে দেরিতে সরকারি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ভুক্তভোগীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়