ফারুক আহাম্মদ, ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও তীব্র গরমের প্রভাবে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু ও বয়স্কসহ অসংখ্য রোগী ডায়রিয়াজনিত অসুস্থতা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
চিকিৎসকদের মতে, আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তন ও তীব্র গরমের কারণে মানবদেহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ফলে এ সময়ে বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতা বাড়ছে, বিশেষ করে ডায়রিয়া। এ পরিস্থিতিতে বিশুদ্ধ পানি পান, খাবার ঢেকে রাখা, হাত পরিষ্কার রাখা এবং খোলা খাবার পরিহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ডায়রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা নিবন্ধিত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনই ডায়রিয়া ও পেটের সমস্যাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অন্তঃবিভাগে ভর্তি হয়েছেন ৫৭ জন। এছাড়া পেটব্যথা, বমি, ঠান্ডা-কাশি ও জ্বরসহ বিভিন্ন উপসর্গে দেড় শতাধিক রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। একই সময়ে জরুরি ও বহির্বিভাগে ডায়রিয়াসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন দেড় হাজারের বেশি মানুষ। দুলালপুর গ্রামের আট মাস বয়সী শিশু রিফাত রাফি তিন দিন ধরে ডায়রিয়ায় ভুগছে। তার মা জানান, চিকিৎসকের পরামর্শে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। একইভাবে তিন বছর বয়সী সুমাইয়া জান্নাতও দুই দিন ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
তার বাবা মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক চিকিৎসায় উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক ভর্তি রাখার পরামর্শ দেন। বর্তমানে শিশুটির অবস্থার উন্নতি হয়েছে। দুই বছর বয়সী আনিকা আঞ্জুমের মা তানজিনা আক্তার জানান, হঠাৎ বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হলে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে এখন কিছুটা সুস্থ হয়েছে। এদিকে, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন উপজেলার বেজুরা এলাকার ৬৫ বছর বয়সী জয়ফলের নেছা।
স্বজনদের ভাষ্য, দুই দিন ধরে অসুস্থ থাকার পর শুক্রবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজা বলেন, তীব্র গরমের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ কিছুটা বেড়েছে এবং শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। দূষিত পানি পান, বাসি বা খোলা খাবার খাওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে এ ধরনের রোগ ছড়াচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ডায়রিয়া প্রতিরোধে নিরাপদ পানি পান, খাবারের আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি।
কেউ আক্রান্ত হলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে এবং রোগীকে পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন পান করাতে হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইনের মজুদ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।