কল্যাণ বড়ুয়া, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে যুবকদের ইয়াবা ও মাদকাসক্তি ভয়াবহ চিত্র দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছ। ইয়াবার নেশায় জড়িয়ে পড়ে এক যুবকের জীবন বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি তার পরিবারও চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। একের পর এক মাদকের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ ও হতাশা ক্রমেই বাড়ছে।
এদিকে শনিবার গভীর রাতে (ভোররাত প্রায় ৩টার দিকে) উপজেলার পশ্চিম চাম্বল ইউনিয়নের চড়াতি পাড়ায় পরিচালিত এক মোবাইল কোর্ট অভিযানে ১৮ বছর বয়সী মো. মামুনকে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন। এ সময় বাঁশখালী থানা পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা সহযোগিতা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামুন পেশায় একজন জেলে শ্রমিক। তিনি বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারে কাজ করতেন। তবে বর্তমানে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তিনি বেকার হয়ে পড়েন এবং সেই সুযোগে মাদকের প্রতি তার আসক্তি আরও বেড়ে যায়। আটকের পর নিজের অপরাধ স্বীকার করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় ৩০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
অভিযান চলাকালে উপস্থিত মামুনের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ইয়াবার নেশার টাকা জোগাড় করতে তার ছেলে সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করে দেয়। এমনকি প্রতিবেশীদের বাড়ি থেকেও গৃহস্থালি সামগ্রী চুরি করতে দ্বিধা করে না। দীর্ঘদিন ধরে এ কারণে পরিবারটি সামাজিক লজ্জা, নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক অস্থিরতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকলেও পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই ভয়াবহ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
বাঁশখালী থানা পুলিশ প্রতিদিন কোথাও না কোথাও অভিযান পরিচালনা করছে মাদকসেবীদের গ্রেফতার কিংবা মাদক উদ্ধারে।
এ ব্যাপারে বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন বলেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযানে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় প্রশাসনের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরো বলেন, মাদক ও অপরাধ নির্মুলে আমি সারাক্ষণ কাজ করতে রাজি ,যার বিনিময়ে যদি পরিবার সমাজে শান্তি বিরাজ করে।