শিরোনাম
◈ তাবলিগের শীর্ষ মুরুব্বি মাওলানা ফারুকের ইন্তেকাল ◈ আরও ১৭১ খেলোয়াড় ক্রীড়া কার্ড পেলেন ◈ ওয়াশিংটনের দাবিকে ‘অবাস্তব’ আখ্যা, আলোচনায় না যাওয়ার ঘোষণা ইরানের ◈ যে জেলায় আগের দামেই মিলছে জ্বালানি তেল! ◈ ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন শেয়ার করায় গ্রেফতারের পর কারাগারে, সংসদে হাসনাত ও চিফ হুইপের মধ্যে বিতর্ক ◈ জোট শরিকরা সংরক্ষিত নারী আসনে কে কতটি পেল জামায়াত থেকে ◈ বিদ্যুৎ খাতে ৫২ হাজার কোটি টাকা বকেয়া, ঋণের বোঝা দেড় লাখ কোটি: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ◈ বাসে ৬৪ শতাংশ, লঞ্চ ভাড়া দেড়গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব ◈ ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে পৌঁছাল মার্কিন দল ◈ সোমবার বগুড়ায় যাত্রা, ‘ই-বেইল বন্ড’ চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:২০ রাত
আপডেট : ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

স্ত্রীকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দান, ভালোবাসার অনন্য নজির

ভালোবাসা শুধু অনুভূতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তা প্রমাণ করা যায়। এমনই এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শরীয়তপুরের জসিম উদ্দিন।

স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করে তিনি সৃষ্টি করেছেন ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও ত্যাগের এক বিরল নজির।

জানা যায়, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নের বসকাঠি গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের স্ত্রী মিনারা বেগম (৩২) প্রায় দুই বছর ধরে উচ্চ রক্তচাপসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।

চিকিৎসকদের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যায়, তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে। পাশাপাশি পেটের ভেতরে একটি টিউমারও ধরা পড়ে।

পরে মিনারাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার মাধ্যমে টিউমারের সমস্যা সমাধান হলেও কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও উপযুক্ত ডোনার না থাকায় সংকট আরও গভীর হয়।

এক পর্যায়ে মিনারার মা কিডনি দিতে রাজি হলেও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। 

এ অবস্থায় স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসেন স্বামী জসিম উদ্দিন (৩৬)। চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গত ৫ মার্চ ঢাকার শ্যামলীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে সফলভাবে তার একটি কিডনি মিনারার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে মিনারা বেগম ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তিনি স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় জসিম ও মিনারার। তাদের একমাত্র সন্তান তামিম আল মারুফ বর্তমানে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় চাকরি করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন জসিম উদ্দিন।

মিনারা বেগম বলেন, আমার অসুস্থতার সময় আমরা ভীষণ দুশ্চিন্তায় ছিলাম। মা কিডনি দিতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। তখন আমার স্বামী নিজেই এগিয়ে আসে। আমি অনেকবার নিষেধ করেছি, কিন্তু সে শোনেনি। এখন আল্লাহর রহমতে আমরা দুজনেই ভালো আছি।

স্বামী জসিম উদ্দিন বলেন, স্ত্রীর এমন অবস্থায় কী করব বুঝতে পারছিলাম না। তখন একটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম—বাঁচলে একসঙ্গে বাঁচব, মরলেও একসঙ্গে মরব। নিজের ইচ্ছাতেই কিডনি দিয়েছি। স্ত্রীকে সুস্থ দেখতে পারাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।

কুচাইপট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএম নাসির উদ্দিন স্বপন বলেন, স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের কিডনি দিয়ে জসিম উদ্দিন সত্যিই একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এটি ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের বিরল উদাহরণ। উৎস: বাংলানিউজ24

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়