নিনা আফরিন ,পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় তরমুজের জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে উজ্জ্বল কর্মকার (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) বিকেল প্রায় তিনটার দিকে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ চরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা উজ্জ্বল কর্মকারকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত উজ্জ্বল কর্মকার উপজেলার কালাইয়া এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম অজিত কর্মকার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চন্দ্রদ্বীপ চরের তরমুজের জমি লিজ ও টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে প্রথমে তরমুজ চাষী ফিরোজ গাজীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে ফিরোজ গাজীর নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের ওপর পাল্টা হামলা চালানো হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ সময় উজ্জ্বল কর্মকার গুরুতর আহত হন। এছাড়া দাসপাড়া এলাকার শামিম হাওলাদার (৩৫) ও মিজান গাজী (৪০) আহত হন। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতের ভাই তাপস কর্মকার বলেন, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্য এস আই মিজানের অবহেলার কারনে তার ভাইয়ের মৃত্যু হয়। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে তার ভাই বেচে যেত।
এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম রাজ্জাক জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চন্দ্রদ্বীপ এলাকার জালাল গাজী ও ফিরোজ গাজীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের যদি অবহেলা থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।