শিরোনাম
◈ অপচয় রোধে সংসদে সতর্কবার্তা, সাউন্ড ও পানির সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ ◈ ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা: জাতিসংঘ কূটনীতিকের বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস ◈ আইএলও অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতি ৪৭ দেশের সমর্থন, শ্রম সংস্কারে অগ্রগতির প্রশংসা ◈ সংসদে ইলিয়াস আলীর খোঁজ চাইলেন স্ত্রী লুনা, গুমের বিচার দাবি ◈ ব‌কেয়া টাকা প‌রি‌শোধ না হওয়ায় টি- স্পোর্টসের সাথে চুক্তি বাতিল জিও স্টারের, দেখা যাবে না আইপিএল ◈ জ্বালানি মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান, দেশজুড়ে উদ্ধার ২ লাখ লিটার তেল ◈ সাবেক সিএমপি কমিশনার জলিল গ্রেপ্তার ◈ রিজার্ভ ছাড়ালো ৩৪ বিলিয়ন ডলার ◈ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস বাস্তবায়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দেশনা  ◈ পুলিশ সদস্যদের হতাহতের ঘটনাকে ‘যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 

প্রকাশিত : ৩০ মার্চ, ২০২৬, ০৮:৩০ রাত
আপডেট : ৩১ মার্চ, ২০২৬, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভূমধ্যসাগর ট্রাজেডির দালাল চক্রের নায়ক আজিজুল

নুর উদ্দিন, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার ইছগাঁও গ্রামের মন্তাজ মিয়ার পুত্র আজিজুল। সিলেট শহরে বসবাস করে। দীর্ঘদিন ধরেই লিবিয়া থাকে। ইউরোপ সহ বিভিন্ন দেশে লোকজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিদেশ পাঠায়।

তার সাথে দেশে আরও অনেক লোক জড়িত আছে এই পেশায়। দালাল চক্রের নেটওয়ার্ক খুবই শক্তিশালী। সুনামগঞ্জ সহ বিভিন্ন জায়গার অনেক মানুষের টাকা নিয়েছে গ্রীস, ইটালী, লিবিয়া পাঠাবে বলে। কেউ কেউ যেতে পেরেছে আবার কেউ যেতে পারেনি।

জগন্নাথপুর উপজেলার ইছগাঁও গ্রামের শায়েখ আহমদের ফুফু শেলী বেগম ও রেখা বেগম বিলাপ করে কান্না করছেন আর বলছেন আজিজুল মূল খন্ডলের ঘটি। সে আমাদের শায়েখ রে নিয়া মারছে। তিনি আরও বলেন আজিজুল  র ইতা (এমন) কেনে করলেরে। মঙ্গলবারে কইছত (বলেছিস) বৃহস্পতিবারে গেইম। এর আগে টেকা (টাকা) লাগবো। গরু, জমি বেইচ্চা টেকা দিলাম। বড় জাহাজের কথা কইয়া ফুরু (ছোট) নৌকাত তুইল্লা দিলাইলেরে। সাগরে ফালাইয়া কইছচ গ্রীস পৌঁছি গেছে। আমরা খুশীমনে বইরিছি (বসে আছি)। অখন হুনি (শুনি) না খাওয়াইয়া মারিলিছস (মেরে ফেলা)।
জগন্নাথপুরের টিয়ারগাঁওয়ের নিহত শায়েখের স্বজন এবং পাশের ইছগাঁওয়ের অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ইছগাঁওয়ের শহীদুল ইসলামের সঙ্গে শনিবার সর্বশেষ কথা হয়েছিল আজিজ উল্লাহ’র এটিও জানালেন তিনি।

শহীদুল ইসলামের খালাতো ভাই আলী আহমদও নিহত ১৮ জনের একজন। বললেন, ‘কাতার থেকে আমার এক ভাই গ্রীসে ফোন দিয়ে ঘটনার সকল তথ্য সংগ্রহ করে। দিরাইয়ের জগদলের রোহান আহমেদ নামের যে ছেলেটি জীবিত পৌঁছেছে সে জানিয়েছে, গেইমের (যে নৌ-যানে সাগর পাড়ি দেয়) বোট ছাড়ার পর পথ হারিয়ে ফেলে। বোটে গেইমের আরেক দালাল জসিমের শালাও ছিল। দুইদিনে পৌঁছার কথা, এরমধ্যে তিন দিন তিন রাত সাগরে ভাসতে ভাসতে না খেয়ে প্রথম মারা যায়- দালাল জসিমের শ্যালক। কিন্তু বোটের চালক যে ছিল, সে এই লাশ সাগরে ফেলতে দেয় নি। পরে একে একে আরও কয়েকজন মারা গেলে, তাদের সবার লাশ সাগরে ফেলে দেয় অন্যারা। খাওয়ার পানিসহ খাবারের মতো কিছুই না থাকায় এবং বোটে থাকা জসিমের লাশের গন্ধে একসময় আমার ভাই আলী আহমদ মারা যায়। তখনো বোটে ছিল আমার এক ভাগ্নির জামাই নাঈম, সে আলী আহমদের লাশ ফেলার সময় কাঁদতে কাঁদতে বলেছে, ‘আমি তোর লাশ ফেলে যাচ্ছি, তোর মা বাবারে কী জবাব দেবো রে।’ বোট তীরে ভিড়ার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে ভাগ্নির জামাই নাইমও মারা যায়। অথচ আজিজ উল্লা ফোন দিয়ে বলেছে, সবাই পৌঁছেছে।

শহীদুল জানালেন, দালাল আজিজ উল্লাহ’র মাধ্যমে অনেকে গ্রীস-ইতালি এভাবেই ইতালি গেছে। তার আরেক সহোদর তিন মাস আগে ১৩ লাখ টাকা চুক্তিতে গ্রীসে গিয়ে পৌঁছেছে। তিনি জানালেন, গেইম দেবার আগে যাদের পাঠানো হবে, তাদের মধ্য থেকেই বোট চালানো শেখানো হয় এবং ম্যাফ অনুসরণ করে বোট চালিয়ে ঝুঁকি নিয়ে সাগর পাড়ি দেয় অভিভাসন প্রত্যাশীরা। এই যাত্রায় বলেছে, বড় বোটে ছাড়বে সকলকে। একপর্যায়ে ফোন দিয়ে জানায়, বড় বোট হচ্ছে না, ছোট বোটে গেলেও সমস্যা হয় না জানিয়ে গেইম দেয় সে, পরে ফোন দিয়ে জানায় গেইম সাকসেস হয়েছে।

তিনি আরও বলেন নিয়ম অনুযায়ী জিপিএস ট্রেকার ও লকেশন ম্যাপ দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়নি। এবং বড় নৌকায় না দিয়ে ছোট নৌকায় তুলে দেয়। ফলে বাংলাদেশের মোট ১৮ জন এর মধ্যে সুনামগঞ্জের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

জগন্নাথপুর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বললেন, ভূমধ্যসাগরে নির্মম মৃত্যুর শিকার চারজনের পরিবারই জানিয়েছে আজিজ উল্লাহ্ নামের এক লিবিয়া প্রবাসী দালালের মাধ্যমে ফোনে কথা বলে তারা গিয়েছিল। আজিজ উল্লাহ্’র বিষয়ে পুলিশ খোঁজ নিচ্ছে জানিয়ে বললেন, এই চক্রে আর কারা কারা যুক্ত রয়েছে খোঁজ খবর নিচ্ছেন তারা। তবে কেউ এই বিষয়ে অভিযোগ করে নি বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন পুলিশ দালাল চক্রের বিষয়ে কাজ করছে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। জেলা প্রশাসক ড মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানান তিন উপজেলার ইউএনও গণ দালাল চক্রের সদস্যদের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে ও যোগাযোগ করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়