শেখ সেকেন্দার আলী, পাইকগাছ : দীর্ঘ ১৬ বছর আ'লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামের সম্মুখ সারির যোদ্ধা একাধিকবার হামলা মামলার শিকার স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হতদরিদ্র চার কন্যা সন্তানের জনক মোঃ আত্তাব গাজী দুরারোগ্য ব্যাধি লিভার টিউমারে আক্রান্ত হয়ে অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে মরছে। কেউ খোঁজ নেয়নি তার। একাধিকবার যোগাযোগ করেও দলের কোনো নেতার সহযোগিতা না পেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
বুধবার সকালে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউপির রেজাকপুর গ্ৰামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট কুড়ে ঘরে চার কন্যা সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন কপিলমুনি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হতদরিদ্র মোঃ আত্তাপ গাজী (৪৫)।
বসবাসের জন্য রয়েছে দুই কাটা জমি। সাংবাদিকদের দেখে আত্তাপ গাজী বিছানা থেকে উঠে বসেন। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এখন আপনারা সঠিক সংবাদ লিখবেন। আমার নেতা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশে এখন শান্তি আসবে। আমার জীবনে আর কোন চাওয়া নেই। দেশের সরকার গঠন করছে আমার দল।
অশ্রু গড়িয়ে পানি ঝরতে ঝরতে আত্তাপ গাজী বলেন, দুঃখ একটাই আমার ম্যাডাম দেখে যেতে পারলো না। তার পরও জীবনের শেষ ইচ্ছা ম্যাডামের কবর জিয়ারত ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করবো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, জীবনের শেষ মুহূর্তে পর্যন্ত আমি বিএনপির জন্য নিবেদিত থাকবো। আমার আর শক্তি নেই কি ভাবে যাবো বলে অঝোরে কাঁদতে শুরু করলেন আত্তাপ। পিতার কান্না দেখে বড় কন্যা ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী মালা(১৪), ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী শারমিন (১১) ছোট খাদিজা(৩( ও আয়শা ২ ও স্ত্রী শাহিদা খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এসময় পাশ্ববর্তী লোকজ ও কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্ত্রী শহিদা খাতুন জানান, বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে ব্যাবসা বাণিজ্য ও মাছের ঘের সব কিছু শেষ হয়েছে। পুলিশ ও আ'লীগের নেতাদের নির্যাতনের একাধিকবার জেল হাজতে থেকেছে। কখনো বাড়িতে থাকতে পারিনি। চার কন্যা নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করলেও কোন নেতা আমাদের সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসিনি। প্রতিদিন ৫শত টাকার ওষুধ লাগে। চেয়ে চিনতে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি আমরা। যে দলের জন্য আমার স্বামীর আজ এই অবস্থা সেই দলের কেউ এগিয়ে আসলো না।
এসময় তিনি বলেন, আমার স্বামীর চিকিৎসার জন্য আমার একটি কন্যা সন্তান বিক্রি করতে চায়, এসময় তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।