নুর উদ্দিন, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে আটকে রেখে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে চলন্ত সিএনজিতে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশি তৎপরতায় ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে অপরাধে ব্যবহৃত সিএনজিটি।
জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে সুনামগঞ্জের 'ভৈরব' নামে এক যুবকের সাথে বিশ্বনাথের ওই কিশোরীর পরিচয় হয়। প্রেমের টানে গত কিছুদিন আগে মেয়েটি বিশ্বনাথ থেকে সুনামগঞ্জ আসে। তবে ভৈরব ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে অস্বীকার করে এবং তার বন্ধু সিএনজি চালক সোহেলের জিম্মায় মেয়েটিকে রেখে দেয়।
ভিকটিমের পরিবার তাকে একবার বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেও, কিশোরীটি পুনরায় সোহেলের কাছে পালিয়ে আসে। অভিযোগ রয়েছে, সোহেল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ১৫-১৬ দিন নিজ বাড়িতে আটকে রাখে এবং একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
গত ১ মার্চ সোহেলের মায়ের সাথে ভিকটিমের ঝগড়া হলে সোহেল তাকে তার বন্ধু এরশাদের বাসায় রেখে সিলেট চলে যায়। সেখান থেকে মেয়েটি তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যেতে চাইলে, এরশাদ ও মাসুম তাকে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে সিএনজিতে তোলে।
অভিযোগে বলা হয়, সুনামগঞ্জ সদর থানাধীন বিশ্বম্ভরপুর রোডের পলাশ নামক এলাকায় নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে সিএনজি চালক এরশাদ দিনের বেলাতেই সিএনজির ভেতরে মেয়েটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় অপর চালক মাসুম তাকে সরাসরি সহায়তা করে এবং পরবর্তীতে তাকে একটি গোপন বাসায় আটকে রাখে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ পিপিএম বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন। এসআই জহিরের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম হাসপাতালে গিয়ে ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহণ করে।
পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ৪ মার্চ দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত একে একে ঘটনার সাথে জড়িত তিন অভিযুক্ত- সোহেল, এরশাদ ও মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাতক চাকমা নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আলামত হিসেবে অপরাধে ব্যবহৃত সিএনজিটি জব্দ করেছেন।
ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে জেলা সমাজসেবা অফিসারও আইনগত সহায়তার জন্য থানায় উপস্থিত হয়েছেন।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি জানিয়েছেন, নারীর নিরাপত্তায় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে পুলিশ। অপরাধীরা যাতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়, সেজন্য মামলার তদন্ত ও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখা হচ্ছে।