শাহাজাদা এমরান, স্টাফ রিপোর্টার,কুমিল্লা : কুমিল্লার একমাত্র সরকারি মুরগি প্রজনন কেন্দ্র চরম জনবল সংকটে কার্যত ধুঁকে ধুঁকে চলছে। নগরীর দক্ষিণ চর্থা এলাকায় ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামারটি দীর্ঘ সাত দশকের পথচলায় নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের পোলট্রি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে এলেও বর্তমানে জনবলের অভাবে এর কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ২৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন, শুন্য পড়ে আছে ১২টি পদ। ফলে দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করাই হয়ে উঠেছে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
খামার সূত্রে জানা গেছে, এখানে মোট ২৩ জন কর্মী থাকার কথা। কিন্তু ১২টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। বিশেষ করে চতুর্থ শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ খালি থাকায় সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। হ্যাচারি এটেনডেন্টের দুটি পদ থাকলেও বর্তমানে একজনও কর্মরত নেই। পোলট্রি এটেনডেন্টের চারটি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র একজন, বাকি তিনটি পদ শূন্য। ডাক এটেনডেন্টের তিনটি পদও পুরোপুরি খালি। এছাড়া নেই কোনো ইলেক্ট্রিশিয়ান কিংবা ড্রাইভার। এমনকি খামার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্যও নেই নির্দিষ্ট কোনো পরিচ্ছন্নতা কর্মী।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি এই প্রজনন খামারটি শুধু কুমিল্লা নয়, আশপাশের জেলাগুলোর খামারিদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এখান থেকে উন্নত জাতের বাচ্চা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেয়ে বহু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উপকৃত হন। তাই প্রতিষ্ঠানটির জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট দ্রুত সমাধান না হলে স্থানীয় পোলট্রি শিল্পের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
মুরগি পালন ও প্রজননের জন্য খামারটিতে রয়েছে ১৩টি শেড ও ২৯টি কক্ষ। তবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব শেডের অধিকাংশের ছাউনি ছেঁড়া ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্জ্য অপসারণও নিয়মিত হয় না, যা পোলট্রির জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় শেড পরিষ্কার, খাবার সরবরাহ, ডিম সংরক্ষণ ও হ্যাচারি ব্যবস্থাপনায় একাধিক দায়িত্ব একই ব্যক্তিকে সামলাতে হচ্ছে। এতে কর্মীদের ওপর বাড়ছে চাপ, আর উৎপাদন কার্যক্রমেও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।
খামারের উপপরিচালক অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চন্দন কুমার পোদ্দার জানান, জনবল সংকটের মধ্যেও তিনি কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করছেন। শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিশেষ করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ঘাটতির কারণে খামার পরিচালনা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। দ্রুত শূন্য পদ পূরণ হলে কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রতিষ্ঠার সাত দশক পর এসে সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ খামারটি এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত। প্রয়োজন শুধু দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ ও জনবল নিয়োগ, যাতে কুমিল্লার এই ঐতিহ্যবাহী প্রজনন কেন্দ্র আবারও পূর্ণ সক্ষমতায় ঘুরে দাঁড়াতে পারে।