মোঃ ফয়সাল চৌধুরী, জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ায় আগাম সবজি হিসেবে বাজারে গত এক সপ্তাহ আগে উঠতে শুরু করেছে সজনের ডাটা। তবে মৌসুমের শুরুতে বাজারে এসেই সজনের ডাটার আকাশছোঁয়াদামের জন্য সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ রেকর্ড দামে। কৃষকরা প্রতিকেজি ৭০০-৮০০ টাকা দাম পেলেও খুচরা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১১০০-১২০০ টাকা দরে। তবে বুধবারে কিছু কিছু বাজারে এই ডাটা দাম পড়তে দেখা গেছে।
ক্রেতারা বলছেন, সজনের ডাটা কুষ্টিয়া অঞ্চলে জনপ্রিয় একটি সবজি।কিন্তু বর্তমান দামে তা অনেকের নাগালের বাইরে চলে গেছে। উচ্চবিত্তরা কিনতে পারলেও নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষকে হিসাব করে চলতে হচ্ছে।
সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, সজনে আগাম সবজি হিসেবে বাজারে উঠেছে। এখনো পুরোপুরি মৌসুম শুরু হয়নি।
ফলে কৃষকদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি মাহে রমজান চলায় চাহিদা বেড়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি। তবে সরবরাহ বাড়লে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে দাম কমে আসতে পারে বলে আশা তাদের।
কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব দোকানেই সজনের ডাটা মিলছে। তবে দামে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। অল্প সংখ্যক কিছু বাজারে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কচি ডাটার চাহিদা বেশি থাকায় দামও গত কয়েক বছরের থেকে এ বছর অনেক বেশি বলে জানান তারা।
কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ জেলায় প্রায় প্রতিটি বাড়ি ও রাস্তার দু’পাশে সজিনা গাছে সেজেছে সজিনার ডাটা । সজিনা গাছের পাতা ঝরে ডালের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত সজিনার ডাটাই ছেয়ে আছে। সজিনার পাতা, ডাল, ডাঁটা পুষ্টিগুণে ভরপুর। সাধারণ মানুষের বরাত দিয়ে আরো জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কয়েক কোটি টাকার ডাঁটা উৎপাদন হবে। গাছে গাছে ফুল থেকে ডাঁটা বের হওয়া ভালো ফলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই সজিনা জেলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখাবে।
সরেজমিনে কুষ্টিয়ার জেলার ছয়টি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, সজিনা গাছ ছেয়ে গেছে সবুজ সবুজ ছোট্ট ছোট্ট ডাটায় । জেলায় প্রায় প্রতি ১০ টি বাড়ি পর পর ও রাস্তার দু’পাশে সজিনা সেজেছে সজিনা ডাটাই ও অল্প কিছু গাছে ফুলে ছেয়ে রয়েছে। মিষ্টি সুবাসে আকৃষ্ট হয়ে সকাল থেকেই ডালে বসছে ছোট পাখিরা। তারা ঠোঁট বাড়িয়ে ফুলের ভেতর থেকে মধু পান করছে। একই সময় যে অল্প কিছু গাছে ফুল রয়েছে সেখানে মৌমাছিরাও গুঞ্জন তুলে পরাগ ও মধু সংগ্রহে ব্যস্ত। এই প্রাকৃতিক ব্যস্ততায় গাছের পরাগায়ন বাড়ছে, যা ফলন বৃদ্ধিতে সহায়ক।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, পাখি ও মৌমাছির উপস্থিতি পরিবেশ সুস্থ থাকার ইঙ্গিত দেয়। সজিনা গাছের পাতা, ডাটা, ফুল শুধু পুষ্টির উৎস নয়, গ্রামীণ জীববৈচিত্র্যের এক জীবন্ত চিত্রও।
কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো: শওকত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, জেলায় এখন বাণিজ্যিকভাবে সজনের চাষ হচ্ছে। আগে গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে গাছ থাকলেও তখন এর চাহিদা কম ছিল। বর্তমানে শহরের প্রতি ১০ বাড়ি পরপর সাজনা গাছ দেখা যাচ্ছে।
তুলনামূলকভাবে গ্রাম-গঞ্জ এই গাছের সংখ্যা অনেক অনেক বেশি। শহরে বহুতল ভবনের জন্য সব ধরনের গাছের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমে যাচ্ছে। যাহোক সজিনা গাছের এখন পুষ্টিগুণ ও ঔষধিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বেড়েছে। ফলে চাহিদাও বেড়েছে। বাজারে কচি ডাটা ওঠায় দাম বেশি। ডাটা পরিপক্ব হলে এবং সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে বলে তিনি জানান।