সোহাগ হাসান জয়, সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে সংঘর্ষে দুই বিএনপি কর্মী নিহতের ঘটনার দুইদিন পর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে রায়গঞ্জ থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন আজ বুধবার সকালে দুইজন নিহতের ঘটনায় নিহত আব্দুস সালামের ছেলে মো. জব্বারুল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় ৬৪ জনের নাম উল্লেখ্য ও অজ্ঞাতনামা আরো ১৫/২০ জনকে আসামী করা হয়েছে।
এদিকে, হত্যাকান্ডে জড়িত আরো দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন, গোয়ালপাড়ার ফজলার রহমানের ছেলে মো: লিটন (৪০) ও পাশ্ববর্তি জামতৈল কানাদিগি গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে আন্নাস আলী (৪০)। এ নিয়ে গ্রেপ্তার সংখ্যা দাঁড়ালো ৫জন। এরআগে সোমবার সকালে উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়ায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
ওসি গোলাম কিবরিয়া আরো বলেন, এ হত্যাকান্ডে জড়িত লিটন ও আন্নাস নামে আরো দুই আসামীকে নাটোরের সিংড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এ মামলায় মোট ৫জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। সংঘর্ষের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আওয়ামীলীগ সমর্থক গোয়ালপাড়ার আহত আছমত আলী, একই এলাকার আশরাফ আলী ও তরিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা এখনো পুলিশ পাহারায় সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গোয়ালপাড়ায় ৫ বিঘা আয়তনের সরকারী খাসপুকুরের দখল নিয়ে আওয়ামীলীগ সমর্থিত আছমত আলী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুবক্কার সিদ্দিকের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত দ্বন্ধ চলে আসছিল। আছমত আলী স্থানীয় মসজিদের নামে পুকুরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পটপরিবর্তের পর বিএনপি নেতা আবুবক্কার সিদ্দিক পুকুরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন।
সোমবার সকালে আবুবক্কার সিদ্দিক লোকজন নিয়ে ওই পুকুরে জাল ফেললে আছমত আলী তাতে বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে আছমত আলীর পক্ষের ৪জন ও আবুবক্কার সিদ্দিকের পক্ষের ৭জন গুরুতর আহত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে আবুবক্কার সিদ্দিকের বড় ভাই আব্দুস সালাম (৬০) ও একই গ্রুপের ইসমাইল হোসেনের (৭০) মৃত্যু হয়। এই পুকুরের দখলকে কেন্দ্র করে ২০০৭ সালে ফজলার রহমান নামে আরো একজন নিহত হয়েছিল।