আজিজুল ইসলাম : যশোরের বাঘারপাড়ায় সংখ্যালঘু পরিবারের এক বিধবা মহিলাকে
বিএনপি নেতার কুপ্রস্তাব ও ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির ঘটনা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি
হয়েছে।
গত দুইদিন ধরে এ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় তা জন্ম নিয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার। অভিযুক্ত বিএনপির ঐ নেতা জনসম্মুখে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেও তা মানতে নারাজ সংগঠনটির অন্য নেতা কমর্ীরা। তারা চাঁদাবাজ ও চরিত্রহীন নেতার দল থেকে বহিস্কারের দাবি জানিয়েছেন। এদের কারনেই যশোর-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পরাজয় ঘটেছে বলেও দাবি করেন। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাঘারপাড়ার দরাজহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক হরুনর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে দরাজহাট ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের এক বিধবা মহিলাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।
এতে রাজি না হওয়ায় হারুন নানান ফন্দি ফিকির করতে থাকেন। এক পর্যায়ে পাশের শুকদেবপুর গ্রামের রবি মৈত্রের ছেলে মিলন মৈত্রকে দিয়ে বিধবা ঐ মহিলার পেছনে লাগিয়ে দেন। মিলন হারুনের হয়ে নানা প্রলোভন দেখাতে শুরু করে। এতে সফল না হয়ে বেছে নেয় ভিন্ন পথ। বিধবা মহিলার বাড়ির কাজের লোককে নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা শুরু করে হারুন ও মিলন। বরুণ বিশ্বাস (৪৮) নামের ঐ কাজের লোকের বাড়িও শুকদেবপুর গ্রামে।
গত শুক্রবার ভোর সাতটার দিকে হারুনের এজেন্ট মিলন মৈত্র শুকদেবপুর বাজারের পাশে পেছন থেকে বরুণকে ঝাপটে ধরে বলে, এলাকার লোকজন ঠেকাতে পারছিনা। ঐ মহিলার সাথে তোর খারাপ সম্র্পক রয়েছে। তোকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। এ সময় ঘটনাস্থলে হাজির হয় বিএনপি
নেতা হারুন। তিনি বলেন ৫০ হাজার টাকা না দিলে বরুণের নামে মামলা দেওয়া হবে এবং মেরে
হাড়গোড় ভেঙ্গে দেওয়া হবে। এমনকি এ মহিলার সাথে তাকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়াও
বরুণ টাকা দিতে না পারলে ঐ বিধবা মহিলাকেই পরিশোধ করতে হবে।
এ সব বিষয় জানা-জানি হলে, রবিবার রাতে শুকদেবপুর বাজারে একত্রিত হয় তিন গ্রামের হিন্দু
সম্প্রদায়ের মানুষ। বিষয়টি জানতে পেরে তাদের সাথে অংশ নেন আশপাশের বিএনপির
নেতাকর্মীরা। তারাও অন্যদের সাথে হারুনের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শুরু করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে হারুন ঘটানাস্থলে এসে তার ভুলের জন্য উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চান।
এ বিষয়ে স্বামীহারা সেই মহিলা জানিয়েছেন, আমি কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় হারুন আমাকে উল্টো ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। একই সাথে ৫০ হাজার টাকাও চাঁদা দাবি করেছে। বরুণ বিশ্বাস জানান, আমার অপরাধ থাকলে কালিকাপুর বা শুকদেবপুর গ্রামের মানুষরা বিচার করবে। অন্য গ্রাম থেকে এসে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। একই সাথে চাঁদাও চাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার অনেকেই বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের পর থেকে হারুন শুকদেবপুর ও কালিকাপুর গ্রামে নানা অপকর্ম করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীল এক নেতা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দ্রত বিষয়টি লিখিতভাবে যশোরজেলা বিএনপিকে জানানো হবে।