শিরোনাম
◈ একাদশে ভর্তির শেষ সুযোগ, আবেদন করা যাবে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ◈ চাহিদার চেয়ে বেশি আমদানি, তবু কমছে না ফলের দাম ◈ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ, আসছে অধ্যাদেশ ◈ ‘ফ্যামিলি কার্ডের কারণে তালাক বন্ধ হয়েছে’: চিফ হুইপ ◈ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে প্রবেশ, বাংলাদেশিদের নিয়ে কঠোর হচ্ছে ইইউ ◈ ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গ্রেপ্তার ২৭২ জন ◈ এলন মাস্কের টেসলাকে চ্যালেঞ্জ, রোডস্টারের ওপর দিয়ে উড়ল আলেফের উড়ন্ত গাড়ি! ◈ অনুমতি ছাড়াই অন্যের ওয়ালেট থেকে পরীক্ষামূলক ইথেরিয়াম খরচ করল ওপেনএআইয়ের গবেষণা মডেল ◈ নারী শ্রমিকদের কল্যাণে গুরুত্ব, রিবা আন্তর্জাতিক স্থাপত্য পুরস্কারে বিশ্বের সেরা নতুন ভবন রংপুরের গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি ◈ ইনানী রিসোর্টে আগুন: ফজরের পর সৈকতে গিয়ে বাঁচলেন দুই বান্ধবী, প্রাণ গেল মুক্তার

প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৫:৫৬ বিকাল
আপডেট : ১০ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাজশাহীতে ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকায় নির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উদ্বোধন

ইফতেখার আলম বিশাল : ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে রাজশাহীতে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। মহান একুশের প্রথম প্রহরে নগরীর সোনাদিঘির পাড়ে নির্মিত এই স্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।

প্রায় এক একর জমির ওপর নির্মিত শহীদ মিনারের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর আগে ভূমিমন্ত্রী শহীদ মিনার চত্বরে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জিললুর রহমান এবং জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, নগরীর সোনাদীঘি মোড়ের জেলা পরিষদের জায়গায় প্রায় এক একর জমির ওপর স্থায়ীভাবে এই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। জেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রায় ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে এটি নির্মিত হয়েছে।

এর আগে ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম আরিফ টিপু এই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

Advertisement

নবনির্মিত শহীদ মিনারে প্রথমবারের মতো একুশ উদযাপনকে ঘিরে এক অনন্য আবহ সৃষ্টি হয়। রাত ১২টা এক মিনিটে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন রাজশাহীর সর্বস্তরের মানুষ। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

অনেকেই খালি পায়ে শহীদ মিনারে গিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি স্মরণ করেন। পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে ছিল শোক, গর্ব ও আত্মমর্যাদার এক আবেগঘন পরিবেশ।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এতদিন সাধারণ মানুষকে শ্রদ্ধা জানাতে রাজশাহী কলেজে যেতে হতো, যা ছিল কষ্টসাধ্য। স্থায়ী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ হওয়ায় সেই ভোগান্তির অবসান হয়েছে এবং নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

বাহান্নর ভাষা আন্দোলনে রাজশাহীর ছাত্র-জনতার গৌরবময় ভূমিকা ইতিহাসে স্বীকৃত। ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়েছিল রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাস এলাকায়। তবে সেই শহীদ মিনার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়নি।

প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণস্থল থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে স্থায়ীভাবে নির্মিত নতুন রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ইতোমধ্যে নগরবাসীর দৃষ্টি কেড়েছে। মহান ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে এটি এখন রাজশাহীবাসীর শ্রদ্ধা ও গৌরবের নতুন ঠিকানা।

  • সর্বশেষ