শিরোনাম
◈ নবম পে-স্কেলের বেতন কাঠামো প্রকাশ ◈ লর্ডসে পাকিস্তানের ভরাডুবি, সি‌রিজ জিত‌লো ইংল‌্যান্ড ◈ মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন, জানুন প্রজ্ঞাপন ও বেতন কার্যকরের তারিখ ◈ আসিম মুনিরের অস্ত্র কারখানা পরিদর্শন : পূজার আগে পাকিস্তানের হামলার শঙ্কা, নজরদারি বাড়িয়েছে ভারত ◈ ‘পরীক্ষিত’ সিল ছাড়া মাংস বিক্রি করলে দোকান বন্ধ: ডিএসসিসি প্রশাসক ◈ সেপ্টেম্বরেও অপরিবর্তিত জ্বালানি তেলের দাম ◈ যুব এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে রাতে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তান ◈ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য সুখবর, ৭ সেপ্টেম্বর থেকে মূল টাকা তুলতে পারবেন গ্রাহকেরা ◈ রা‌তে নারী এশিয়া কা‌পে ইন্দোনেশিয়ার বিরু‌দ্ধে ম্যাচ দিয়ে লড়াই শুরু বাংলা‌দে‌শের ◈ পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাস উল্টে আহত ৮

প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৫:৫৬ বিকাল
আপডেট : ১০ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাজশাহীতে ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকায় নির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উদ্বোধন

ইফতেখার আলম বিশাল : ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে রাজশাহীতে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। মহান একুশের প্রথম প্রহরে নগরীর সোনাদিঘির পাড়ে নির্মিত এই স্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।

প্রায় এক একর জমির ওপর নির্মিত শহীদ মিনারের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর আগে ভূমিমন্ত্রী শহীদ মিনার চত্বরে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জিললুর রহমান এবং জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, নগরীর সোনাদীঘি মোড়ের জেলা পরিষদের জায়গায় প্রায় এক একর জমির ওপর স্থায়ীভাবে এই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। জেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রায় ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে এটি নির্মিত হয়েছে।

এর আগে ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম আরিফ টিপু এই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

নবনির্মিত শহীদ মিনারে প্রথমবারের মতো একুশ উদযাপনকে ঘিরে এক অনন্য আবহ সৃষ্টি হয়। রাত ১২টা এক মিনিটে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন রাজশাহীর সর্বস্তরের মানুষ। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

অনেকেই খালি পায়ে শহীদ মিনারে গিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি স্মরণ করেন। পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে ছিল শোক, গর্ব ও আত্মমর্যাদার এক আবেগঘন পরিবেশ।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এতদিন সাধারণ মানুষকে শ্রদ্ধা জানাতে রাজশাহী কলেজে যেতে হতো, যা ছিল কষ্টসাধ্য। স্থায়ী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ হওয়ায় সেই ভোগান্তির অবসান হয়েছে এবং নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

বাহান্নর ভাষা আন্দোলনে রাজশাহীর ছাত্র-জনতার গৌরবময় ভূমিকা ইতিহাসে স্বীকৃত। ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়েছিল রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাস এলাকায়। তবে সেই শহীদ মিনার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়নি।

প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণস্থল থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে স্থায়ীভাবে নির্মিত নতুন রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ইতোমধ্যে নগরবাসীর দৃষ্টি কেড়েছে। মহান ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে এটি এখন রাজশাহীবাসীর শ্রদ্ধা ও গৌরবের নতুন ঠিকানা।

  • সর্বশেষ