সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ, কুমিল্লা: কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীমহাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, গোমতী নদীর এক টুকরো মাটিও অবৈধভাবে কাটতে দেওয়া হবে না। নদী রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণকে দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদীর মাটি কাটার বিরুদ্ধে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কঠোরভাবে সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা হবে।
শুক্রবার বেলা ১২ টায় কুমিল্লায় সফর উপলক্ষে সার্কিট হাউসে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, নদী পরিবেশ ও জনজীবনের নিরাপত্তার জন্য নদীর অবকাঠামো, তীর ও চরের মাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই মাটি অবৈধভাবে কাটার ফলে নদীর তীর ক্ষয়, বাঁধের ক্ষতি এবং আশপাশের কৃষিজমির উৎপাদন হ্রাসসহ পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। এতে স্থানীয় জনপদের বসতভিটা ও অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়ে।
তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নজরদারির নির্দেশনা দিয়েছে। কেউ আইন ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো প্রভাবশালী মহল বা সিন্ডিকেটের কাছে সরকার নতি স্বীকার করবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে গোমতী নদীর তীর ও চরে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব মাটি ইটভাটা ও নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার ফলে নদীর তীর দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। পরিবেশবিদরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অবৈধ মাটি কাটা রোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, অভিযান জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম নেওয়া হবে। নদী ও পরিবেশ সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।