এম আর আমিন, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সারাদেশের মতো ভোটের উৎসব লেগেছে।কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিচ্ছেন নারী-পুরুষ, তরুণ-যুবকসহ বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আপামর ভোটারেরা। চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারের সারি দেখা গেছে।
চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, চলছে গণনা কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনটি বিতর্কিত সংসদ নির্বাচনে ভোট নিয়ে নেতিবাচক অভিজ্ঞতার পর পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ভোট দেওয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে বেশ উৎসাহ দেখা গেছে।
নগরীর চট্টগ্রাম-১০ আসনের পাহাড়তলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোট কেন্দ্রের নারী পুরুষ ভোটারদের দীর্ঘ সারি লাইন। জেলা ও মহানগরী মিলিয়ে ১৬টি সংসদীয় আসনে এবার ভোটার প্রায় ৬৭ লাখ। প্রার্থী আছেন ১১৫ জন। এবারের নির্বাচনে ভোটারেরা সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটেও অংশ নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়েছে বহু আকাঙ্খিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও গণভোট। একটানা চলেছে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতভর নগরী ও জেলাজুড়ে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে টহল দিয়েছে পুলিশ-সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৪০ হাজার সদস্যরা।
চট্টগ্রামে এবার মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৯৬৫টি। এর মধ্যে ৬৫৩টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৬০৭টি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপির) ১৬ থানার আওতাধীন। বাকি ১৩৫৮টি কেন্দ্র জেলা পুলিশের ১৭টি থানার আওতাধীন। নগরীতে ৬০৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩১০ টি ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলা পুলিশের অধীনে ৩৪৩টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে এবার মোট ভোটার ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭ জন এবং মহিলা ভোটার ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ৭০জন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ৩১৭ জন।
চট্টগ্রামে ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটির অবস্থান পুরোপুরি মহানগরীতে। ১০টি আসনের অবস্থান জেলায়। বাকি তিনটি আসন জেলা ও মহানগরীর কিছু অংশ মিলে আছে। চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনজন রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষ থেকে আলাদা তিনটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। সেখান থেকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে খোলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জেলার ১০টি সংসদীয় আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে চালু করা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ৫টি সংসদীয় আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে, যেগুলোর রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে বিভাগীয় কমিশনার দায়িত্ব পালন করছেন। আর চট্টগ্রাম বন্দর স্টেডিয়ামে আরেকটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছেন চট্টগ্রাম-১১ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা। সেখানে ওই আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। একইভাবে গণভোটের ফলাফলও ঘোষণা করা হবে।