শিরোনাম
◈ এবার লেবাননে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর বার্তা ট্রাম্পের ◈ বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের বেড়া নির্মাণে মেঘালয়ের আপত্তি, গ্রামবাসীর প্রতিবাদ ◈ পুরোপুরি সুস্থ নন ইলিয়াস কাঞ্চন: কথা বলছেন, তবে জড়তা কাটেনি, স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন তথ্য ◈ এমপিদের সরাসরি তহবিল বরাদ্দ বাতিল, প্রকল্প অনুমোদন দেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ◈ পুলিশের দ্রুততম তদন্ত, আদালতের ছুটি বাতিল এই দৃষ্টান্তমূলক রায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে ◈ ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে ‘জিরো সিগন্যাল’ মহাপরিকল্পনা, ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকা ◈ পরিচালক‌দের ‌ভো‌টে তা‌মিম ইকবাল বিসিবির সভাপতি  ◈ সংসদে প্রতিশ্রুতি দিলে স্ট্যাডি করেই দেবেন: জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকার (ভিডিও) ◈ ব্রাজিলের জার্সির রঙ সাদা থেকে যেভাবে হলুদ হয়ে উঠলো  ◈ ৬ শিশুর প্রত্যেকের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:২৩ দুপুর
আপডেট : ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বেনাপোলে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উদযাপন

আজিজুল হক, বেনাপোল প্রতিনিধি (যশোর) : “অতন্দ্র প্রহরা আর দৃঢ় অঙ্গীকারে দেশের সুরক্ষায় কাস্টমস”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বেনাপোলে উৎসবমুখর পরিবেশে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উদযাপিত হয়েছে। 
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ১১ টায় বেলুন এ পায়রা উড়িয়ে দিবসটি উদযাপন ও কার্যক্রম শুরু করক হয়।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) জি এম আবুল কালাম কায়কোবাদ।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কর কমিশনার, কর অঞ্চল, যশোর, মোঃ মাসুদ রানা, যশোর কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট মোঃ আবদুল হাকিম,বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মোঃ শামছুর রহমান।

আলোচনা সভায় রাজস্ব আদায়, বাণিজ্য সহজীকরণ, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে কাস্টমস প্রশাসনের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে কাস্টমস হাউসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠন সিএন্ডএফ, ট্রান্সপোর্ট এ আমদানি,রফতানিকারক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে রাজস্ব আহরনের কোন বিকল্প নেই। সে কারনে সামর্থ্যবান প্রতিটি সেক্টর এবং ব্যক্তিকে করের আওতায় আনতে হবে। রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সহজ হবে। তিনি আরো বলেন রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা এবং গতিশীলতা আনতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।

কাস্টমসের তথ্য মতে, স্থলপথে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি আমদানি,রফতানি বাণিজ্য হয়ে থাকে। বছরে এর পরিমান ২০ থেকে ২২ লাখ পাসপোর্টধারী। এছাড়া চিকিৎসা ব্যবসা,উচ্চ শিক্ষা গ্রহন ও দর্শনীয় স্থান ভ্রমনে বিপুল পরিমান মানুষ ভারতে যায়। বছরে যার পরিমান প্রায় ১৮ লাখ পাসপোর্টধারী। ভ্রমন ও বাণিজ্য এই দুই খাত থেকে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আসে। যা দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রেখে আসছে।

এনবিআরের তথ্য বলছে, পরিবর্তনশীল বিশ্ব ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রকৃতি ও ধরণ পরিবর্তনের সাথে সাথে পাল্টে যাচ্ছে দেশের বর্ডার এজেন্সির কাজের কৌশল ও গুরুত্ব। রাজস্ব আহরণ যেখানে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচিত হত, সেখানে বর্তমানে তা পরিবর্তিত হয়ে বাণিজ্য সহজীকরণ, জাতীয় নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা, মেধাসত্ত্ব সংরক্ষণ, চোরাচালান ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধসহ নানাবিধ জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের মত বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কাস্টমসের বহুমূখী ভূমিকা ও তার গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতি বছর World Customs Organization (WCO) একটি বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে বিশ্বব্যাপী তার তাৎপর্য তুলে ধরে। ২০২৬ সালে WCO কর্তৃক নির্ধারিত কাস্টমস দিবসের প্রতিপাদ্য হলো “Customs protecting society through vigilance and commitment”। WCO এর অন্যান্য সদস্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশ কাস্টমস এ প্রতিপাদ্যের গুরুত্ব বিবেচনা করে ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয়ভাবে সেমিনার আয়োজন ও দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস ও কাস্টমস স্টেশনে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ কাস্টমস এর বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।

ফ্রন্টলাইন বর্ডার এজেন্সি হিসেবে বাংলাদেশ কাস্টমস সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর দিয়ে বাণিজ্য সহজীকরণ ও মাদক, অস্ত্র, অবৈধ স্বর্ণ, খাদ্য-ওষুধ, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ করে জননিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে—যেমন পুলিশ, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বন্দর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ আন্তর্জাতিকভাবে WTO-TFA, WCO-RKC ও CMAA চুক্তি এবং SAARC, D-8, তুরস্ক, সৌদি আরব ও জাপানের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী অন্যান্য দেশের কাস্টমস প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করেছে। চোরাচালান শনাক্ত ও প্রতিরোধের জন্য WCO-এর RILO এবং Customs Enforcement Network (CEN) ব্যবহার করা হয়।

বাংলাদেশ কাস্টমস দেশের আর্থ–সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মোট আদায়ের ২৭% কাস্টমস হতে আদায় করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক-কর যৌক্তিকীকরণ, দেশীয় শিল্পকে রেয়াতি সুবিধা ও ট্যারিফ সুরক্ষা প্রদান, বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধায় রপ্তানি সহজীকরণ, LDC Graduation-এর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শুল্ক হার যৌক্তিকীকরণ ও মেধাস্বত্ব বিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাণিজ্য সহজীকরণ করা হয়েছে।

ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কাস্টমস আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমদানি-রপ্তানি দ্রুততর করছে। ASYCUDA World, iBAS++ ইন্টিগ্রেশন, Bangladesh Single Window (BSW) ও Automated Risk Management Software কার্যকর ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে পণ্যচালান খালাস সহজ ও পেপারলেস হয়েছে। Time Release Study অনুসারে ৯০% পণ্য এক দিনের মধ্যে শুল্কায়ন হচ্ছে। Non-Intrusive Inspection, Post Clearance Audit, AEO, Customs Bond Management System, E-auction ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দ্রুত ঝুঁকিমুক্ত বাণিজ্য নিশ্চিত করছে।

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা, চোরাচালানকারীসহ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসে জড়িতদের নিত্যনতুন কলাকৌশল, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাণিজ্য ব্যবস্থা ইত্যাদি নানাবিধ কারণে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। উচ্চ পেশাদরিত্ব, বিশেষায়িত জ্ঞান, দেশি-বিদেশী অংশীজনদের সাথে সহযোগিতা বজায় রাখাসহ যুগোপযোগী কর্মকৌশলের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কাস্টমস এ সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে দেশ, সমাজ, রাষ্ট্র তথা সারা বিশ্বে আর্থ–সামাজিক সুরক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করছে।।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়