হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: কুয়েতে কর্মরত ফরিদপুরের সালথা উপজেলার প্রবাসী যুবক জামাল মাতুব্বরের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় শোক ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কুয়েতের আহমেদী জেলার অপেরা ফার্ম হাউজে কর্মরত অবস্থায় গত পহেলা জানুয়ারি তার মৃত্যু হয়।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে জামাল মাতুব্বরের দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ সময় তার বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া।
নিহত জামাল মাতুব্বর ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রাহুতপাড়া গ্রামের মৃত হামেদ মাতুব্বরের ছেলে। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সংসারের সুখের জন্য প্রায় আট বছর আগে কুয়েতে পাড়ি জমান জামাল। সেখানেই তিনি কর্মজীবন কাটাচ্ছিলেন। তিন বছর আগে একবার ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আবার দেশে ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু প্রবাসজীবনের সেই প্রত্যাবর্তন আর হলো না—লাশ হয়েই ফিরতে হলো তাকে।
জামালের স্ত্রী কাকোলি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের জন্যই তাকে হত্যা করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা ধারণা করছি, হত্যাকারীরা তার পরিচিত মানুষ। আমি কুয়েতে বাংলাদেশি দূতাবাসের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি।” এ কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
এ বিষয়ে তালেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা ও কুয়েতপ্রবাসী মুন্নু ফকির বলেন, “আমি ডিসেম্বর মাসে ছুটিতে দেশে এসেছি। জামাল যেখানে থাকত, সেখান থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে আমি থাকি। পহেলা জানুয়ারি খবর পাই, জামাল আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। কুয়েতের ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। পরে পুলিশের মাধ্যমে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।”
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্ত শেষে কুয়েতে বাংলাদেশি দূতাবাসের সহযোগিতায় মঙ্গলবার জামালের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ গ্রামে এনে দাফন সম্পন্ন করেন।
এলাকাবাসী ও স্বজনরা জামাল মাতুব্বরের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে কুয়েতে বাংলাদেশি দূতাবাসের হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।