শিরোনাম
◈ পাহাড়ি অঞ্চলে সফল আর্লি ওয়ার্নিং মডেল: আগাম সতর্কবার্তায় কমছে প্রাণহানি, ভূমিধস মোকাবিলায় নতুন আশার আলো ◈ মার্কিন ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ‘পাবলিক’ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ◈ মিথ্যা কাহিনি ও জাল কাগজে অ্যাসাইলাম, হাজারো আবেদন বাতিলের হুঁশিয়ারি ◈ ট্রাম্পের অকথ্য ভাষায় গালাগাল প্রসঙ্গে নেতানিয়াহুে এবার যা বললেন ◈ মধ্যপ্রাচ্যের যে ১৪ দেশে নতুন সতর্কতা জারি করল যুক্তরাষ্ট্র ◈ বি‌শ্বের নেতৃত্ব নি‌য়ে যুক্তরাস্ট্র, রা‌শিয়া ও চী‌নের ম‌ধ্যে রশি টানাটানি ◈ বিশ্বকাপের প্রস্তু‌তি, ফ্রান্স‌কে হারা‌লো আইভ‌রি কোস্ট, স্পেনকে রুখে দিলো ইরাক ◈ ৩০০ ফিটে ঝটিকা মিছিলের অভিযোগে যুবলীগ নেতা আটক ◈ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে আবারো তলিয়ে গেছে যাত্রীবাহী বাস (ভিডিও) ◈ নতুন সতর্কতায় ‘সুপার এল নিনো’, কোন সংকটে পড়তে পারে বিশ্ব?

প্রকাশিত : ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৬:২৯ বিকাল
আপডেট : ০২ জুন, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

লক্ষ্মীপুরে আগাম টমেটো চাষে ভাইরাসের হানা, দিশেহারা কৃষকরা

জাহাঙ্গীর লিটন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের মিয়ারবেড়ি ও সুতার গোপ্টা এলাকায় আগাম টমেটো চাষ করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। জমিতে মারাত্মক লিফ কার্ল ভাইরাসের আক্রমণে গাছ মরে যাচ্ছে, ফলে উৎপাদনের আগেই ক্ষতির মুখে পড়ছেন চাষিরা।

চাষি মহিউদ্দিন জানান, তিনি এক একর জমিতে আগাম টমেটো চাষ করেছেন। প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। দেড় মাস আগে রোপণ করা গাছে এখন ফুল আসতে শুরু করেছে। আরও দেড় মাস পর ফল বিক্রির আশা ছিল। কিন্তু ভাইরাস আক্রমণে গাছগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। নানা ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করেও লাভ হচ্ছে না। একই পরিস্থিতি পাশের ৮ একর জমিতে টমেটো চাষ করা কৃষক জালালের ক্ষেতেও।

মাঠ পর্যায়ে কাজ করা কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ ভাইরাসটির নাম ‘লিফ কার্ল ভাইরাস’। সাদা মাছির মাধ্যমে এটি এক ক্ষেত থেকে আরেক ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে। এবারই প্রথম এই এলাকায় এমন সংক্রমণ দেখা গেল। কৃষকদের অনেকেই ভাইরাসটি সম্পর্কে জানতেন না, ফলে সঠিক সময়ে ওষুধ প্রয়োগ করতে পারেননি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এই ভাইরাসের বিস্তারে বড় ভূমিকা রাখছে। ঋতুর স্বাভাবিক নিয়ম ভেঙে গিয়ে অক্টোবর মাসে বৃষ্টিপাত, দিনে অতিরিক্ত গরম ও রাতে শীত পড়ার কারণে ভাইরাসের বিস্তার দ্রুত ঘটছে। এতে করে গাছের পাতা কোঁকড়ে যায়, পুরু হয়ে যায়, ফুল ঝরে পড়ে এবং ফল ধারণ ক্ষমতা কমে যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ জহির আহমেদ বলেন, আমরা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। ভাইরাস আক্রান্ত গাছগুলো তুলে ফেলে মাটিতে পুঁতে দিতে বলা হয়েছে। তবে কৃষকদের অনেকেই গাছ তুলে ফেলার ব্যাপারে অনীহা দেখাচ্ছেন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাকসবজি আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে টমেটো চাষ হচ্ছে প্রায় ৭৭৮ হেক্টর জমিতে। এখনও পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার হেক্টরে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকরা যেমন আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন, তেমনি জেলা কৃষি দপ্তরও সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। তবে এই ভাইরাস মোকাবেলায় সময়মতো সচেতনতা ও ব্যবস্থাপনা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়