ঈশ্বরদী (পাবনা) থেকে: পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় এক যুবককে অস্ত্র হাতে গুলিবর্ষণ করতে দেখা গেছে। গুলিবর্ষণের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়। দুই দলের নেতাকর্মীরা ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করে ওই যুবককে সন্ত্রাসী বলছেন এবং নানা মন্তব্য করছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার চরগড়গড়ি এলাকার মোড়ে এই সংঘর্ষ ঘটে। বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, অস্ত্রধারী সেই যুবক জামায়াত–শিবিরের কর্মী। অন্যদিকে জামায়াত নেতাদের বক্তব্য, তিনি বিএনপির কর্মী। পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী–আটঘরিয়া) আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডল বলেন, তাঁদের কর্মীদের কারও কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। তিনি
বলেন, ‘আমরা অস্ত্রের রাজনীতি করি না। আমাদের ওপর বিএনপির সন্ত্রাসীরা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আহত করেছে। তাঁদের কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে।’
বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান জানান, জামায়াতের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটের বিনিময়ে ‘বেহেশতর টিকিট’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন। স্থানীয় বিএনপি নেতারা আপত্তি জানালে জামায়াতের প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডল অস্ত্রধারী লোকজন নিয়ে গ্রামে ঢুকে বিএনপির দুজনকে মারধর করেন। পরে গ্রামবাসী প্রতিরোধ করলে জামায়াতের লোকজন পাল্টা গুলি চালায় ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর করে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি মক্কেল মৃধা বলেন, গুলি চালানো যুবক জামায়াত–শিবিরের কর্মী এবং তাঁর গুলিতে বিএনপির কয়েকজন আহত হন।
তিনি আরও জানান, ওই যুবকের নাম তুষার হোসেন। তিনি ঈশ্বরদী পৌরশহরের ভেলুপাড়া গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে।জামায়াত প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডলের বাড়িও একই গ্রামে এবং তুষার তাঁর প্রতিবেশী। তিনি প্রায় সবসময় তালেব মণ্ডলের সঙ্গে থাকেন বলেও জানান মক্কেল মৃধা।
এ বিষয়ে জানতে ঈশ্বরদী থানার ওসি আ স ম আব্দুর নূরের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।