আজিজুল হক, বেনাপোল: যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে সোমবার ৩৩৪ ট্রাক পণ্যের আমদানি ও রফতানি হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে মোট ১,৯১৬ জন পাসপোর্টধারী যাতায়াত করেছেন। এ সময় বাণিজ্য খাতে প্রায় ১৩ কোটি টাকা এবং ভ্রমণ খাতে প্রায় ১৭ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) সকালে বন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) পলাশ হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় মানি-চেঞ্জারদের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বাংলাদেশি ১০০ টাকায় ৭৩ রুপি পাওয়া গেছে এবং ভারতীয় ১০০ রুপিতে ১৩৫ টাকা পাওয়া গেছে। প্রতি মার্কিন ডলারের ক্রয়মূল্য ১২৫ টাকা ও বিক্রয়মূল্য ১২৬ টাকা ছিল।
বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টা থেকে আমদানি–রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়। এদিন ভারত থেকে ৩২৮ ট্রাক পণ্য আমদানি করা হয়। এসব পণ্যের মধ্যে ছিল—
শিল্পকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, কেমিকেল, শিশুখাদ্য, মেশিনারি, অক্সিজেন, বিভিন্ন ফল, চাল, পেঁয়াজ, মাছসহ নানা ধরনের পণ্য।
বাংলাদেশ থেকে ভারতে ১০৬ ট্রাক পণ্য রফতানি করা হয়। রফতানি পণ্যের মধ্যে ছিল— বসুন্ধরা টিস্যু, মেলামাইন সামগ্রী, কেমিকেল, মাছ এবং ওয়ালটন পণ্য।
বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি খায়রুজ্জামান মধু জানান, গত বছরের ৫ আগস্টের আগে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ট্রাক পণ্যের বাণিজ্য হতো। কিন্তু দুই দেশের একের পর এক নিষেধাজ্ঞার কারণে আমদানি–রফতানি এবং পাসপোর্টধারী যাতায়াত অর্ধেকে নেমে এসেছে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশের বাণিজ্য বৈঠক বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দ্রুত বাণিজ্যের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।
ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, সোমবার ভোর সাড়ে ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত মোট ১,৯১৬ যাত্রী যাতায়াত করেন।
এর মধ্যে বেনাপোল দিয়ে ভারতে গেছেন ১,২৩৯ জন—
এ সময় ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন ৬৭৭ জন—
৫ আগস্টের পর ভিসা জটিলতার কারণে পাসপোর্টধারী যাতায়াত কমে যায়।
এদিকে বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান জানান, সর্বশেষ ২৩ নভেম্বর রেলপথে এসিআই মোটরস ভারত থেকে ১০০টি ট্রাক্টর আমদানি করেছে। তবে গত বছরের ৫ আগস্টের পর ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ঢাকা–বেনাপোল–কলকাতা রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।