শিরোনাম
◈ জ্বালানি চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের পাশে থাকার বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের ◈ দুই গোলে এগিয়ে থেকেও থাইল‌্যা‌ন্ডের কা‌ছে হারলো বাংলাদেশ নারী দল ◈ তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ ◈ ওকে লাথি মেরে বের করে দিন: নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে যুদ্ধে পাঠানোর দাবি স্টিভ ব্যাননের ◈ বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে আমরা কষ্ট পেয়েছি: ইরানি রাষ্ট্রদূত ◈ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: জ্বালানি সংকটে প্রথমে ফুরিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ! ◈ শিশুশিল্পী লুবাবার বিয়ে আইনত বৈধ কি না, বাল্যবিবাহের দায়ে কী শাস্তি হতে পারে? ◈ মহানগর এলাকার সরকারি প্রাথমিকেও আসছে অনলাইন ক্লাস ◈ এসএসসি পরীক্ষা ঘিরে কড়াকড়ি, কর্মকর্তাদেরও চাকরি হারানোর ঝুঁকি ◈ চলতি অর্থ বছরের ৩১৮.৬৩৯ কি.মি. খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে : পানি সম্পদ মন্ত্রী 

প্রকাশিত : ২৪ নভেম্বর, ২০২৫, ০৭:৩১ বিকাল
আপডেট : ২২ মার্চ, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণহীন গতিতে দুর্ঘটনাপ্রবণ, রাতে হচ্ছে ছিনতাই

এম আর আমিন, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দ্রুতগতির সুবিধায় যান চলাচল কিছুটা সহজ হলেও নতুন করে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ নিরাপত্তা সংকট। নিয়ন্ত্রণহীন গতি, নজরদারির অভাব এবং রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে এখানে দুর্ঘটনা ও ছিনতাই—দুই ধরনের ঝুঁকিই আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ের বেশিরভাগ অংশে এখন বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চলা ‘নিয়মে’ পরিণত হয়েছে। চালকরা নির্ধারিত গতিসীমা মানছেন না—ফলে প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। রাতে বা ভোররাতে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

এর পাশাপাশি বেড়েছে ছিনতাইয়ের ঘটনাও। বিশেষ করে রাত ৮টার পর থেকে কিছু স্থান ছিনতাইকারীদের ‘টার্গেট জোন’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। 

প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকেই এলিভেটেড  এক্সপ্রেসওয়েরতে গাড়ির গতি বেড়ে যায় ভয়াবহভাবে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস প্রায় ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করছে। হঠাৎ লেন পরিবর্তন, গতি সীমা অমান্য করা এবং রেসের মতো আচরণের কারণে রাতের দিকে আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটের দিকে নগরীর নিমতলা মোড়ে বন্দর থানার সামনে ফ্লাইওভার থেকে একটি প্রাইভেটকার ছিটকে নিচে রাস্তায় পড়ে গেছে। এতে পথচারী মো. শফিক  (৫৫)নামে একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।

প্রাইভেট কারটি বিমানবন্দরের দিক থেকে  চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ওপর দিয়ে আগ্রাবাদের দিকে যাচ্ছিল। নিমতলা মোড় অতিক্রম করার সময় সেটি এক্সপ্রেসওয়ের রেলিং ভেঙে নিচে পড়ে যায়।

নিহত শফিক বাইসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ফ্লাইওভারের ওপর থেকে পড়া প্রাইভেটকারটির নিচে তিনি চাপা পড়ে নিহত হন। 

প্রত্যক্ষদর্শীয় স্থানীয়রা জানান, প্রাইভেটকারটি বেপরোয়া গতিতে ফ্লাইওভার অতিক্রম করছিল, নিমতলা মোড়ে পৌঁছার পর ফ্লাইওভারের সীমানা দেওয়ালের অংশ ভেঙে সেটি নিচে পড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হঠাৎ বিকট শব্দ হয় আমরা গিয়ে দেখি, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নিছে রাস্তায় পড়া একটি প্রাইভেটকার কাৎ হয়ে আছে এবং সেটির চাকাগুলো ঘুরছে। সেখান থেকে ১৭-১৮ বছর বয়সী এক মেয়ে বের হয়ে আসে। পরে আমরা আরও তিনজনকে বের করি। তাদের মধ্যে দু’জনের বয়স ১৮-২০ বছর এবং চালকের বয়স আরেকটু বেশি হতে পারে।

এর পাশাপাশি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে বেড়েছে।

গত ১৪ জুলাই ভোরে তিনি শাহ আমানত বিমানবন্দরে নামেন। বড় ভাইকে আনতে বিমান বন্দরে গিয়েছিলেন সালাউদ্দিন। তিনিও দুইমাস আগে বাইরাইন থেকে দেশে আসেন। সাহাব উদ্দিন জানান, বিমান বন্দর থেকে বের হয়ে সকাল সাড়ে আটটায় দুইভাই প্রাইভেটকারে হাটহাজারীর উদ্দেশ্যে রওনা হন। এলিভেটেড এক্সপ্রেওয়ের টোল বক্স পার হয়ে আনুমানিক দুই কিলোমিটার যেতেই একটি কালো মাইক্রোবাস তাদের প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে। মাইক্রো থেকে সাত আটজন যুবক নেমে ছুরি দিয়ে প্রথমে গাড়ির চাকা ফামচার করে দেয়। তাদের হাতে ওয়াকিটকি ও অস্ত্র ছিল। তারা অস্ত্রের মুখে ১০০ গ্রাম স্বর্ণের অলংকার, একটি স্যামসাং ট্যাব, একটি আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স, একটি স্যামসাং এস ২৪ আল্ট্রাসহ মোট পাঁচটি মুঠোফোন, ৫০০০ ইউএস ডলার, ৪৫০০ দিরহাম ও নগদ টাকা কেড়ে নেয়।দেশে এসে ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে খুবই কষ্ট পেয়েছি।

ট্যাক্সি থামিয়ে প্রবাসী অপহরণ: গত ২৭ অক্টোবর সকাল দশটায় সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফিরেন ইমরান মুন্না। সোলেমান নামে এক আত্মীয় বিমানবন্দর থেকে মুন্নাকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তাদের বহনকরা সিএনজি ট্যাক্সি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাঠগড় বাজার অংশে পৌঁছালে তাদের গতিরোধ করা হয়। অস্ত্র ঠেকিয়ে তাদের অন্য একটি গাড়িতে তুলে অপহরণ করা হয়। অপহরণের ঘণ্টাখানেক পর অক্সিজেন এলাকা থেকে অপহৃত মুন্নাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

গত ৬ আগস্ট রাত নয়টায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ছিনতাইয়ের শিকার হন তিন বছর আবুধাবি থেকে দেশে আসে সুমন দাশ। দেওয়ানবাজারের বাসিন্দা অমল দাস ছেলেকে আনতে যান চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে। দীর্ঘদিন কাছে পাওয়া ছেলেকে নিয়ে বাসায় ফেরার পথে ছিনতাইকারীরা প্রবাসী সুমনের সর্বস্ব ছিনিয়ে নেন। 

বিশেষ করে বিদেশ ফেরত যাত্রীরা ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছে। লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সেপ্রেসওয়েতে কয়দিন বিরতির পর পর ঘটছে ছিনতাই ঘটনা ঘটছে।

অপরাধীরা নিরাপদ জোন হিসাবে দীর্ঘ এ এক্সপ্রেসওয়ে বেছে নিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পতেঙ্গা ও লালখান বাজার ছাড়া এক্সপ্রেসওয়েতে মাঝখানে কোথাও উঠার সুযোগ নেই। তবে সম্প্রতি পতেঙ্গা ও বন্দর থানা পুলিশ দিনে এবং রাতে দুই শিফটে ডিউটি করছে জানিয়েছেন।  

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সায়েন্স বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন,
এক্সপ্রেসওয়ের পুরো অংশে নেই কার্যকর স্পিড ক্যামেরা বা গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। নিয়মিত পুলিশ টহলও চোখে পড়ে না। ফলে চালকদের গতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোনো বাধাই কার্যকরভাবে কাজ করছে না।

তিনি বলেন, এক্সপ্রেসওয়েতে পর্যাপ্ত লাইটিংয়ের পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা বসানো প্রয়োজন। পুলিশের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি মোটরসাইকেল পেট্রোলিং বাড়ানো যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে নজর দিলে সেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেক কমে আসবে।

নগরবাসীর দাবি, এ অবস্থা চলতে থাকলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। এ কারণে দ্রুতগতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, নিয়মিত পুলিশের টহল বাড়নোর দাবি জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। শিগগিরই গতি নিয়ন্ত্রণ, টহল জোরদার এবং ছিনতাই প্রতিরোধে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

জনগণের প্রত্যাশা—এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে শুধু দ্রুত চলাচলের পথই নয়, নিরাপদ পথ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হোক।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়