শিরোনাম
◈ মির্জা ফখরুলই কি বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা হচ্ছেন? ◈ এক্সিমের পর সোশ্যাল ইসলামী বুঝে পেল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ◈ প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে স্বপ্নপূরণ অনুশ্রীর ◈ মার্কিন বাজারে চীন-ভারতের চেয়ে কম ক্ষতির মুখে বাংলাদেশ ◈ ঢাকায় পাকিস্তান হাই কমিশনারের বাসভবনে আগুন ◈ রাষ্ট্রপতি পদে লড়তে কী কী যোগ্যতা প্রয়োজন? জানুন সংবিধানের শর্তগুলো ◈ কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা, বহিষ্কার জামায়াতের আরেক নেতা ◈ বিটিভির নতুন মহাপরিচালক কাজী জেসিন ◈ চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম ◈ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর

প্রকাশিত : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৭:৪৪ বিকাল
আপডেট : ০১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কিশোরগঞ্জে নরসুন্দা নদীর গতিরোধ বন্ধ করে সেতু নির্মাণের অভিযোগ 

ফারুকুজ্জামান, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ শহরসহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বয়ে যাওয়া একসময় খরস্রোতা ও প্রমত্তা এই নরসুন্দা নদী। এককালে নদীতে দেশ-বিদেশের সওদাগরি নৌকা এই নদীপথে চলাচল করত। বর্তমানে নদীটি নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায় এবং আবর্জনার কারণে খালে পরিনত হয়েছে। এদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর নরসুন্দা নদীতে সেতুর নামে পাকা বাঁধ নির্মাণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। সদর উপজেলার রঘুখালী এলাকায় ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি এখন এলাকাবাসীর মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে উঠেছে।

তারা বলছেন, এই সেতুর কারণে পরিপূর্ণভাবে বাধাগ্রস্ত হবে ৫৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই নদীর পানি প্রবাহ। পরিকল্পনাবিহীন এমন সেতু নির্মাণে হতবাক স্থানীয়রা। নদীকে হত্যা করে এমন সেতু নির্মাণ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরাও।

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি  উপজেলার মানুষ যাতায়াতের সুবিধার্থে শহর আসা বাইপাস সড়কে নরসুন্দা নদীর উপর ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর সেতু নির্মাণ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার মেয়াদ ধরা হয় চলতি বছরের ৭ অক্টোবর। 

৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতুটির কাজ ৪০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সেতুটি দেখে প্রথমেই মনে হবে এটি যেন সেতু নয়, বরং নদীর গতিরোধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে তৈরি হচ্ছে পাকা বাঁধ। তাছাড়া যেখানে ১১ মাসে মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ হয়েছে, আর এক মাসে কীভাবে বাকি ৬০% কাজ সম্পন্ন করবে? এটা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর কিরণ বলেন, এটাতো ব্রিজ হচ্ছে না, এটা হচ্ছে বাঁধ। এতে আমাদের ক্ষতি হবে, নদীর ক্ষতি হবে। ব্রিজের মধ্যে পিলার হয়, সেটি অনেক উঁচু হয়। এটাতে কোনো পিলার নেই। এটা এত নিচু যে নৌকা চলাচল তো দূরের কথা, পানিও ঠিক মতো চলাচল করতে পারবে না। ব্রিজটি উঁচু করার দরকার। ইঞ্জিনিয়ার যে কীভাবে এত নিচু করে প্লানটি পাশ করলো, সেটাই এক বিষ্ময়!

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, নরসুন্দা নদী খনন করাসহ এর সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ১৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে সরকার। এর আগেই এলজিইডি নদীটিতে সেতুর নামে বাঁধ দিয়ে নদীকে হত্যা করছে। যদি ওই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় তাহলে এ ধরনের সেতুগুলো কোন কাজেই আসবে না। বরং অযথা সরকারি কোষাগারের টাকা নষ্ট ছাড়া আর কিছুই নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর যদি যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে নদী বাঁচাতে কঠোর আন্দোলনে যাব আমরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা বিহীন এ সেতু নির্মাণের সকল দায় এড়িয়ে যান জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এনায়েত কবীর। 

তিনি বলেন, এই সেতুটির নির্মাণ প্রক্রিয়ায় আমি কর্মরত ছিলাম না। আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। এটার ডিটেইলসটা আমার জানা নেই। তবে এটার ডিজাইনটা সদর দপ্তর থেকে হয়। এখান থেকে সার্ভে করে গেছে, সার্ভে রিপোর্টের ভিত্তিতে এই সেতুটি করা হচ্ছে।

সেতুটি দুই কোটি চৌত্রিশ লক্ষ টাকা নির্মাণ ব্যায় ধরে এ সেতুটির কাজ ১১ মাসে শেষ হয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ। আগামী এক মাসে শেষ করতে হবে বাকি ৬০ শতাংশ কাজ। কিন্তু এমন ভুল ডিজাইনের সেতু চান না এলাকাবাসী। সেতুর নিচ দিয়ে অবাধে পানি প্রবাহ নিশ্চিতসহ নৌযান চলাচলের সুবিধা চান এলাকাবাসী।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়