অক্টোবরে ঢাকার ফার্মগেটে মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খসে পড়ে নিহত হন এক পথচারী। এর পরপরই জনপ্রিয় এই গণপরিবহনের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অথচ মেট্রোরেলে ঠাসা চীনে দুর্ঘটনা প্রায় শূন্যের কোটায়। দেশটির গুয়াংডং প্রদেশের রাজধানী গুয়াংজু। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম মেট্রো শহর। এখানে প্রতিদিন মিলিয়ন যাত্রী চলাচল করে।
চীনে মেট্রোরেল নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহার করা হয় রোবোটিক ও ড্রোন প্রযুক্তি। দেশটির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু জনবল দিয়ে মেট্রোরেলের সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়, প্রয়োজন উন্নত প্রযুক্তি। বাংলাদেশ তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে বলে জানান চীনা প্রকৌশলীরা।
তারা মেট্রোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে নিয়মিত ও আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থায়। সেই অভিজ্ঞতার কথা জানালো গুয়াংজু মেট্রো ডিজাইন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট। যারা বিশ্বের ১৯টি দেশের মেট্রোরেল প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত।
প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলীরা জানান, নতুন যে মেট্রো লাইন নির্মাণ হচ্ছে, সেখানে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার বেগে ছুটবে ট্রেন।
জিএমডিআই চায়না রিজিওনাল ম্যানেজার প্রকৌশলী ঝ্যাং লু বলেন, ‘১৩ দশমিক ৫ মিটার ব্যাসের টানেল বোরিং মেশিন দিয়ে আমরা আন্ডারগ্রাউন্ড লাইনের কাজ করছি। এই লাইনের কাজ শেষ করতে আমাদের সর্বোচ্চ ২ বছর লাগবে।
২০২৮ সালের মধ্যে যাত্রী চলাচল করতে পারবে। আমরা সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। নিরাপদ মেট্রো চলাচল নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
তিনি আরও জানান, মেট্রোরেলের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজন প্রযুক্তি নির্ভর মনিটরিং সিস্টেম।
জিএমডিআই চায়না রিজিওনাল ম্যানেজার প্রকৌশলী ঝ্যাং লু বলেন, ‘এখানে ব্যবহার করা হচ্ছে অটোমেশন, রোবোটিক প্রযুক্তি এবং এআই পরিচালিত মনিটরিং ব্যবস্থা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি যন্ত্রাংশ সেন্সরের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়। ড্রোনের মাধ্যমে তদারকি করায় টানেলের কঠিন জায়গাতেও পৌঁছানো সম্ভব। নিয়মিত অডিট ও যন্ত্রপাতি পরীক্ষার ওপর আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই।’
প্রকৌশলীরা বলছেন, বাংলাদেশ চাইলে চীনের সহযোগিতায় মেট্রোরেলের নিরাপত্তা প্রটোকল আরও শক্তিশালী করতে পারে। সূত্র: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন