ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চারপাশে ফুটপাত ও প্রধান সড়ক দখল করে ফের গড়ে তোলা হয়েছে অস্থায়ী দোকানপাট। শনিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) পরিচালিত উচ্ছেদ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবারও পুরোনো চিত্র ফিরে এসেছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেট থেকে শুরু করে নতুন ভবন ও চানখারপুলমুখী ফুটপাত-সড়কজুড়ে এখন পুনরায় বিভিন্ন দোকান বসিয়েছে হকাররা। এতে সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ যানজট। এতে বিপাকে পড়ছে রোগী ও তাদের স্বজনরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেট থেকে নতুন ভবনের সামনে পর্যন্ত ফুটপাত ও সড়কজুড়ে সারি সারি দোকান বসানো হয়েছে। রঙিন ছাতার নিচে ফল, জুস, চা, সিগারেট, প্রসাধনী ও কাপড়সহ নানা পণ্য বিক্রি চলছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এসব দোকানে ভিড় করছে রোগীর স্বজন ও পথচারীরা। জরুরি বিভাগের প্রবেশপথে ‘ডে-নাইট ফার্মেসি’ ঘেঁষে চা-সিগারেটের দোকান, পাশে রোগীদের জন্য সুপের দোকান, কাটা ফল ও ঠান্ডা পানি বিক্রি হচ্ছে। একটু সামনে গরম ভাত-তরকারি আর পরোটার দোকান, যেখানে রোগীর স্বজনরা নাস্তা বা দুপুরের খাবার খাচ্ছেন। পাশেই ফলের দোকান, এর পাশে রুটি-কলা ও চায়ের দোকান। আরেকজন রাতে থাকার জন্য পাটি ও পড়ার জন্য লুঙ্গি বিক্রি করছেন। আরেকপাশে সড়ক দখল করে ভাতের হোটেল। মোবাইলের লোডের দোকান। এছাড়াও নতুন ভবনের সামনে ঠেলাগাড়িতে ডাব, কমলালেবু, ডালিম, আপেল, আনারস ও আঙুর সাজিয়ে রেখেছেন ফল বিক্রেতারা; পাশে কাপড় ও প্রসাধনীর দোকানে চলছে দরদাম। পুরো সড়কের একপাশে ব্যাটারিচালিত রিকশা, অন্য পাশে দোকান ও ক্রেতার ভিড়ে রাস্তা কার্যত দখল হয়ে আছে। এতে রোগী বহনকারী রিকশা ও অ্যাম্বুলেন্সকে জনসমুদ্র ঠেলে যেতে হচ্ছে। বিক্রেতাদের হাঁকডাক, রিকশার হর্ন ও মানুষের গুঞ্জনে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা যেন এক অঘোষিত হাটে পরিণত হয়েছে।
একজন দোকানি বলেন, আমরা গরিব মানুষ। অভিযান হলে কিছুক্ষণ দোকান গুটিয়ে যাই, কিন্তু কোথাও বসার জায়গা নেই, তাই আবার ফিরে আসি। একজন পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রোগী নিয়ে ঢামেকে ঢোকা এখন চরম দুর্ভোগের ব্যাপার। এখানে হাঁটা বা অ্যাম্বুলেন্স চলাচল দুই-ই অসম্ভব। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা মেডিকেল সংলগ্ন ফুটপাত ও প্রধান সড়কের দখল সমস্যা সমাধানে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে। তবে বিস্তারিত পরিকল্পনা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম জানতে তিনি ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার যুগান্তরকে বলেন, আমরা চাই, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা, সড়ক-ফুটপাতে কোনো ধরনের ময়লা, আবর্জনা বা ফুটপাত দখলের সমস্যা না থাকে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগের দুই পাশে শহীদ মিনার বহির্বিভাগ গেট পর্যন্ত এলাকা নতুনভাবে সাজানো হবে। ল্যান্ডস্কেপিং, ঝরনা লাইট, গোলাকার বসার ব্যাঞ্চ ও স্থায়ী সিমেন্টের বসার জায়গা তৈরি করে পুরো এলাকাকে সুন্দর, সুশৃঙ্খল এবং পরিবেশবান্ধব করা হবে। কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আশা করছি ১০-১৫ দিনের মধ্যে সব কাজ সম্পন্ন হবে। সূত্র: যুগান্তর