দীপক চৌধুরী: মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ডোদের দুঃসাহসিক অভিযান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ— এমন মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা নৌ-কমান্ডো এসোসিয়েশনের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির লিখিত বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টা বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ‘অপারেশন জ্যাকপট’-সহ নৌ-কমান্ডোদের বীরত্ব ও দুঃসাহসিক অভিযান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাদের সামরিক ও কৌশলগত সফলতা ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা উচিত।”
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান কবীর, বীর প্রতীক। প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নইম জাহাঙ্গীর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নৌ-কমান্ডো প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নৌ-কমান্ডো অনীল বরণ রায়, এএইচএম জিলানী চৌধুরী, আজিজুল আলম এবং সৈয়দ আহাম্মদ মজুমদার প্রমুখ।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, শ্রী শ্রী গীতা পাঠ এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের নৌ-কমান্ডো বদিউল আলম শাহ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে গাওয়া গান পরিবেশন করেন।
সম্মেলন শেষে আগামী তিন বছরের জন্য ২৯ সদস্যের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন নৌ-কমান্ডো সৈয়দ আহাম্মদ মজুমদার, কো-চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান এবং মহাসচিব নৌ-কমান্ডো অনীল বরণ রায়। যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন জয়নাল আবেদিন।
এছাড়া আটজন ভাইস চেয়ারম্যান এবং অর্থ, সাংগঠনিক, দপ্তরসহ বিভিন্ন পদে আরও ১৫ জন সদস্য নির্বাচিত হন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নৌ-কমান্ডো একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নৌ-কমান্ডোদের দুঃসাহসিক অভিযানে শুধু বিস্মিতই হয়নি, বরং ভয়ে তাদের অন্তরাত্মাও কেঁপে উঠেছিল।