শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী, ২০২২, ১১:০৪ রাত
আপডেট : ১৭ জানুয়ারী, ২০২২, ১১:০৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রতারক চক্রের মূল হোতা গ্রেপ্তার

সুজন কৈরী: [২] বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে সক্রিয় প্রতারক চক্রের মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তার নাম- মেহেদী হাসান।

[৩] সোমবার দুপুরে নড়াইলের লোহাগড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে বিকাশসহ ১০টি সিম, তিনটি মোবাইল ফোন এবং একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।

[৪] সোমবার রাতে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ বলেন, সাইবার পুলিশ সেন্টারের নিয়মিত অনলাইন মনিটরিংকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য একটি প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে এমন তথ্য পায়। এ সময় জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগে জালিয়াতি করে ভর্তির প্রলোভন দিচ্ছে একটি অসাধু চক্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির বিষয়ে ভুয়া তথ্য সরবরাহ করে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকাও হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি।

[৫] তিনি বলেন, ‘নৎঁৎ চান্স ১০০% করে দিব’ নামের গ্রুপ থেকে একটি বার্তা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শেয়ার করা হয়। ওই বার্তায় বলা হয়, যারা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায়নি, তাদের চান্স পেয়ে দেব। এতে খরচ হবে ২০ হাজার টাকা। অগ্রিম পেমেন্ট করতে হবে ৮৫০ টাকা। একই গ্রুপ থেকে আরেকটি বার্তা শেয়ার করা হয়। সেখানে লেখা ছিল, ‘যারা রেজাল্ট চেঞ্জ করার জন্য ৮৫০ টাকা দিয়েছেন তাদের রেজাল্ট চেঞ্জ হয়েছে। বিকাল পাঁচটার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে রেজাল্ট পাবেন। বাকি টাকা ভর্তির পর দেবেন।’

[৬] এরপর সিআইডি সাইবার দল বিষয়টিতে তৎপর হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হয়। অনুসন্ধান চালানো হয় বেশ কয়েক দিন। অবশেষে প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে সিআইডি।

[৭] সিআইডি কর্মকর্তা বলেন, প্রতারক চক্রটি জগন্নাথসহ আরও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গেও যুক্ত। এই পদ্ধতি অবলম্বন করে চক্রটি বিভিন্ন মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিতো।

[৮] গ্রেপ্তার মেহেদীর বরাত দিয়ে সিআইডি জানিয়েছে, মেহেদী ২০১৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। চক্রটি মূলত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছুদের সাথে যোগাযোগ করত। তাদের দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাইয়ে দেওয়ার জন্য আশ্বস্ত করা হতো এবং নিবন্ধনের টাকা দেওয়ার জন্য বাধ্য করা হতো। বিশ্ববিদ্যালয়রে ভর্তির রেজাল্টের পর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বন্ধ করে দেওয়া হতো সাথে এডমিন নম্বর এবং বিকাশ নম্বরও বন্ধ করে দিতো।

  • সর্বশেষ