প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] দক্ষিণ এশিয়ার হত্যার ক্ষেত্র বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত : পাকিস্তান টুডে

মাছুম বিল্লাহ: [২] বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যা নিয়ে শনিবার পাকিস্তান টুডে’তে ‘হোয়ার ইজ দ্য এনড অব বর্ডার কিলিংস অ্যালোঙ দ্য ইন্ডিয়া বাংলাদেশ বর্ডার’ শিরোনামে এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, গত ১০ বছরে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি। এই সীমান্ত এলাকা পরিণত হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার হত্যার ক্ষেত্র। অনেক ক্ষেত্রে নিরস্ত্র ও অসহায় স্থানীয়দের ঠান্ডা মাথায় হত্যার সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়নি।

[৩] পত্রিকাটি লিখেছে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যার শেষ কোথায়? ভারত প্রতিনিয়ত সীমান্ত এলাকা থেকে বাংলাদেশের সাধারণ কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হত্যা করছে। বিএসএফ নির্বিচারে গুলিবর্ষণে প্রতি বছর বহু বাংলাদেশী নিহত হচ্ছে। ভারতের অন্যান্য প্রতিবেশী দেশ নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, পাকিস্তান এবং চীন সীমান্তে কখনও সাধারণ নাগরিক গুলিতে নিহত হয় না। এসব দেশের সীমান্ত এলাকার সাধারণ নাগরিকরা খুব শান্তিতে বসবাস করছে। তবে কেন বন্ধু রাষ্ট্র বাংলাদেশ নিয়ে বিএসএফের এমন বিরক্তিকর আচরণ?

[৪] পাকিস্তানের পত্রিকাটি লিখেছে, চীন ও পাকিস্তানের সাথেও ভারতের সীমান্ত রয়েছে। সীমান্ত সমস্যা আছে। কিন্তু সেখানে ভারত এভাবে গুলি চালায় না। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দিয়ে শুধু গরুই পাচার হয় না, ভারত থেকেও আসে ফেনসিডিল, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র। বিএসএফ তা দেখে না। আর গরু শুধু পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসে না। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসে। কেন তাদের সেখানে থামানো যাচ্ছে না?

[৫] পাকিস্তান টুডে লিখেছে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, ২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে, বিএসএফ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কমপক্ষে ১,১৬৫ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করেছে। এই স্পর্শকাতর বিষয়টি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে বিবেচনায় নিতে হবে। এটা বুঝতে হবে যে সীমান্তে কোনো যুদ্ধ নেই। কোনো নাগরিক অজান্তে, ভুলবশত বা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করলে চুক্তি অনুযায়ী তাদের বিজিবি বা স্থানীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে ব্যাপক ও সামগ্রিক রাজনৈতিক সংলাপ প্রয়োজন।

[৬] সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নতি ঘটলেও সীমান্তে তা প্রতিফলিত হয়নি, এমনকি সার্বিক প্রেক্ষাপটেও। সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় সিদ্ধান্ত বিএসএফ প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করবে না। কিন্তু তারপরও বিএসএফ প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার করছে, হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।

[৭] পাকিস্তান টুডে লিখেছ, সীমান্তে প্রতিবেশী নাগরিককে হত্যা করার অধিকার কারো নেই। এটা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সীমান্ত হত্যা এভাবে চলতে পারে না। বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের উচিত এখন সঠিক সমাধান বের করা, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত