শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৯ ডিসেম্বর, ২০২১, ১০:৫৩ দুপুর
আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর, ২০২১, ১০:৫৩ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] ‘সংশপ্তক’ বিজয়ের মূলমন্ত্র

ওয়াজহাতুল ইসলাম: [২] প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। সবুজের রাজ্যে দৃষ্টিনন্দন লেক আর লাল রঙের অট্টালিকা যে কোনো মানুষের মন কাড়বে। সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত সবুজের এই নগরীর প্রতিষ্ঠার সঙ্গে দৃঢ়ভাবে জড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধ ও তার ইতিহাস। ক্লাস শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়েছে মুক্তির সংগ্রামে। মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি রক্ষার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কয়েকটি স্থাপত্য-ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে। সেই সংগ্রামের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে ‘সংশপ্তক’। বিভিন্ন সময় নির্মিত এসব ভাস্কর্য শিক্ষার্থীদের কাছে মুক্তি সংগ্রামের গৌরবগাঁথা ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি।

[৩] বিশ্ববিদ্যালয়ের কেদ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক পায়ে রাইফেল হাতে দাঁড়িয়ে আছে ‘সংশপ্তক’ ভাস্কর্যটি। শিল্পী হামিদুজ্জামান খান ভাস্কর্যটিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্রোঞ্জের শরীরে প্রতীকী ব্যঞ্জনায় প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন। ১৯৯০ সালের ২৬ মার্চ নির্মিত হয়েছিল স্মারক ভাস্কর্য ‘সংশপ্তক’। মূল ভূমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ১৫ ফুট। এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যগুলোর মধ্যে একটি বিখ্যাত ভাস্কর্য। এই ভাস্কর্যটি স্বাধীনতার মহান স্মৃতি আর গৌরবের মহিমায় মহিমান্বিত।

[৪] যুদ্ধে নিশ্চিত পরাজয় জেনে লড়ে যান যে অকুতোভয় বীর সেই হলেন ‘সংশপ্তক’। দেশ মাতৃকার স্বাধীনতার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন অসংখ্য ‘সংশপ্তক’। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে এক সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে পূর্র্ব বাংলার আপামর জনতা। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়। এই ইতিহাসে বহু মানুষের আত্মত্যাগ লুকিয়ে আছে। নির্ভীক লড়াই চালিয়ে শহিদ হয়েছেন লক্ষ লক্ষ বীর যোদ্ধা। তাঁদের সম্মানার্থে নির্মিত হয়েছে এই ভাস্কর্য। ব্রোঞ্জের শরীরে দৃশ্যমান করা হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবজ্জল ইতিহাস, ঐতিহ্য ও চেতনা। ভাস্কর্যে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, শত্রুর আঘাতে একটি হাত ও একটি পা হারিয়ে রাইফেল হাতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধা।

[৫] ‘জন্মভূমির জন্য আমৃত্যু লড়াই করার মানসিকতা থাকা সকল নাগরিকের কর্তব্য। স্বদেশের জন্য ত্যাগ করার মহিমায় মহিমান্বিত হওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার। ‘সংশপ্তক’ আমাদের দেশপ্রেমের সর্বোচ্চ চূড়া দেখায়, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের আরোহন করা উচিত।’ ‘সংশপ্তক’ নিয়ে বলতে গিয়ে এমন অনভূতির কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আল মাহমুদ।

[৬] ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী নবনিতা শবনম অধরা বলেন, ‘বিশবিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থিত ভাস্কর্যটি স্মরণ করিয়ে দেয় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। লক্ষ্যে পৌঁছাতে মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম ত্যাগ। তাদের এই ত্যাগ থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। সব কিছু হারিয়েও আবার উঠে দাঁড়াতে হবে। এছাড়াও ভবিষ্যতে দেশের উন্নতির পথে অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়োগ করে সংগ্রামের প্রেরণা পাই।’

[৭] ‘সংশপ্তক’ দুর্বার মনোবল ও অপরিসীম সাহস নিয়ে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা যোগায় জানিয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী বায়েজিদ হাসান রাকিব বলেন, ‘পঙ্গুত্ব বরণসহ লাখো শহীদের রক্ত ও মা-বোনেদের সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। তাদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। তারই বহিঃপ্রকাশ ‘সংশপ্তক’। জ্ঞান, মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে বিশ্বের বুকে লাল-সবুজের পতাকাকে উড্ডীন করার এক উজ্জীবিত শক্তি দেয়।’

[৮] দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করতে মুক্তিযোদ্ধা ও গ্রামবাংলার আপামর জনতার স্বাধীনচেতা, অকুতোভয় মানসিকতার সাহসী প্রতিবিম্ব এই ভাষ্কর্য।

  • সর্বশেষ