প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রুমী আহমেদ: দেশে ভ্যাকসিনেশনের স্পিড বাড়াতে হবে

রুমী আহমেদ: ছবিতে দক্ষিণ আফ্রিকার খাউটেং প্রদেশের কোভিড-১৯ এর সবগুলো ওয়েভ একসঙ্গে দেখানো হয়েছে- অসম্পূর্ণ কালো লাইনটি বর্তমান ওমিক্রন ওয়ে কে রিপ্রেজেন্ট করছে। দেখুন এই ওয়েভটা অন্য ওয়েভগুলোর তুলনায় কী দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। তাদের ইনফেকশন পজিটিভিটি হার এক সপ্তাহের মধ্যে <১ শতাংশ থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ হয়ে গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার এই ওয়েভটার দিকে বাংলাদেশের পলিসিমেকারদের ভালো করে নজর দেওয়া দরকার। দক্ষিণ আফ্রিকার যেই অঞ্চলে এই ওমিক্রন ওয়েভটা শুরু হয়েছে, খাউটেং প্রদেশে, সেখানে একজাক্টলি বাংলাদেশের মতোই কয়েকমাস আগে একটা ম্যাসিভ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ওয়েভ হয়ে গেছে। জোহান্সবার্গসহ এই প্রদেশের ঘনজনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে সিরোপজিটিভিটি ৮০ শতাংশের উপরে। মানে এই অঞ্চলগুলোর ৮০-৮৬ শতাংশ মানুষের অলরেডি ইনফেকশন হয়ে গেছে। বাংলাদেশের ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি ইত্যাদি অঞ্চলগুলোর অবস্থাও তাই।

কিন্তু এই নতুন ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টটার স্পাইক প্রোটিনে এতো মিউটেশন হয়ে গেছে ( ত্রিশটার মতো- শুধু রিসেপ্টর বাইন্ডিং অংশেই হয়েছে পনেরোটার মতো মিউটেশন যা হয়তো ভাইরাসটাকে এখন আমাদের কোষের ভেতর ঢুকতে আরও বেশি সহায়তা করছে)- ডেল্টা ও অন্য ভ্যারিয়েন্ট দিয়ে ইনফেকশনের ফলে যে এন্টিবডি হয়েছে সেই এন্টিবডি গুলো এই নতুন ভ্যারিয়েন্টকে চিনতে পারছে না এবং প্রতিরোধ করছে না। আমার ধারণা হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার মতোই একটা ওমিক্রন ওয়েভ ধেয়ে আসছে বাংলাদেশের দিকে- কিন্তু কবে আসবে সেটাই প্রশ্ন। দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞতা থেকে যতোদূর জানা যায় যাদের আগে ইনফেকশন হয়েছিলো আর যারা কমপ্লিটলি ভ্যাকসিনেটেড- তাদের ইনফেশন হলেও তেমন সিরিয়াস অসুখ হচ্ছে না। এই অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায় যে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের হাতে যে পরিমাণ সময় আছে তা কাজে লাগিয়ে যতো বেশি সংখ্যক মানুষকে ভ্যাকসিনেটেড করে দিতে পারে ততোই কম ক্ষতিকর হবে পরবর্তী সময়ের ওমিক্রন ওয়েভটা। দেশে ভ্যাকসিনেশনের স্পিড বাড়াতে হবে। উইকেন্ডেও সন্ধ্যার পরও ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বেসরকারি খাতকেও ইনভল্ভ করতে হবে। লেখক : জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত