প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অমিক্রনের ঢেউ মোকাবিলায় সব দেশকে প্রস্তুত থাকতে বলল ডব্লিউএইচও

ডেস্ক রিপোর্ট: করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) উদ্বেগ সৃষ্টিকারী নতুন ধরন অমিক্রনের সংক্রমণ বৃদ্ধি ও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিশ্বের দেশগুলোকে স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।  রয়টার্স

অমিক্রনের সংক্রমণ নিয়ে বিশেষ করে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে সতর্ক করে ডব্লিউএইচও আজ শুক্রবার এ প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানায়। সংস্থা বলেছে, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়াকে সাময়িকভাবে বিলম্বিত করতে পারে, তবে এককভাবে তা সমাধান নয়।

খবরে বলা হয়, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিলেও অস্ট্রেলিয়াই হলো সর্বশেষ দেশ, যেখানে করোনার নতুন ধরনের সামাজিক সংক্রমণ ঘটার তথ্য পাওয়া গেছে। এর এক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে অমিক্রন সংক্রমণ শনাক্ত হয়।

অমিক্রনের সংক্রমণ ইতিমধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ২৫টির বেশি দেশে শনাক্ত হয়েছে। আর প্রথম শনাক্ত হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার ৯টি প্রদেশের মধ্যে ৭টিতেই এই ধরনটিতে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরার চেষ্টায় অনেক দেশের সরকার ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরও কড়াকড়ি করেছে।

ডব্লিউএইচওর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক পরিচালক তাকেশি কাসেই বলেন, ‘সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া সাময়িকভাবে বিলম্বিত করা যেতে পারে। কিন্তু প্রতিটি দেশ ও কমিউনিটিকে অবশ্যই সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে তৈরি থাকতে হবে।’

এক সংবাদ সম্মেলনে তাকেশি আরও বলেন, ‘সীমান্ত নিয়ে গৃহীত পদক্ষেপের ওপরই শুধু নির্ভর করে থাকলে মানুষের চলবে না, যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, সম্ভাব্য উচ্চ সংক্রমণ সক্ষমতার এই ধরনটিকে নিয়ন্ত্রণে নিজেদের প্রস্তুতি নিতে হবে। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, তাতে এ ইঙ্গিতই পাওয়া যায়, আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাচ্ছি না।’

প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডব্লিউএইচওর এই কর্মকর্তা সব দেশের সরকারগুলোর প্রতি ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে পূর্ণ ডোজ টিকার আওতায় আনা এবং সবাইকে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার মতো পদক্ষেপ কার্যকর করার আহ্বান জানান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অমিক্রনকে করোনার ‘উদ্বেগজনক ধরন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। বিজ্ঞানীরা এই ধরন কতটা বিপজ্জনক ও সংক্রামক তা নির্ধারণে এখনো তথ্য সংগ্রহ করছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর কমিউনিকেবল ডিজিজের বিজ্ঞানী মিশেল গ্রুম বলেন, অমিক্রন নিয়ে তাঁর দেশ এ মুহূর্তে করোনার এক নজিরবিহীন ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মুখোমুখি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত বিশ্বে এ মহামারিতে ২৬ কোটি ৪০ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন প্রায় ৫৫ লাখ লোক।

খবরে বলা হয়, দুই বছর ধরে করোনার দাপট চললেও বিভিন্ন দেশে টিকাদানের হারে ফারাক রয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোতে এ ফারাক উদ্বেগজনক। যেমন, বিশ্বের চতুর্থ জনবহুল দেশ ইন্দোনেশিয়ার মাত্র ৩৫ শতাংশ মানুষ করোনা টিকার পূর্ণ ডোজ পেয়েছেন। দেশটি একসময় এশিয়ায় সংক্রমণের কেন্দ্রস্থল ছিল।

অমিক্রনের ভয়াবহতা সম্পর্কে অস্ট্রেলিয়ার প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা পল কেলি বলেছেন, কয়েক মাসের মধ্যে এটি বিশ্বজুড়ে প্রধান প্রভাব বিস্তারকারী করোনার ধরন হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি ডেলটা ধরনের চেয়ে বিপজ্জনক সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না।

অমিক্রনের সংক্রমণ ঠেকাতে গৃহীত পদক্ষেপ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ‘আমরা বিশৃঙ্খলা ও সংশয়মূলক নয়, বরং বিজ্ঞানসম্মত ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এটির লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করছি।’

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গতকাল বৃহস্পতিবার হংকং, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও রাশিয়াসহ আরও কিছু দেশ বিশ্বজুড়ে ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ জোরদার করার কথা ঘোষণা করেছে। জার্মানি বলেছে, তারা টিকা গ্রহণ না করা লোকজনকে একেবারে জরুরি ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়া অন্য সব কার্যক্রম থেকে দূরে রাখার ব্যবস্থা নেবে। সেই সঙ্গে আসছে বছরের শুরু থেকে টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক করতে আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত