প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী: খালেদা জিয়ার প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দয়া দেখালেন তা পৃথিবীতে বিরল

দীপক চৌধুরী: বিএনপি-জামায়াত-জাতীয় পার্টি যখন গণতন্ত্রের কথা বলে তখন তাদের বক্তব্যগুলো সাধারণ জনগণের সঙ্গে ‘মশকরা’ করার মতই মনে হয়। কারণ, যতরকম সন্ত্রাস, রক্তক্ষয়ী ঘটনা, গুম-হত্যা, গুলি-গ্রেনেড- বোমা হামলা এসব হয়েছে জাতীয় পার্টি, বিএনপি-জামায়াত সরকার আমলেই। অগণতান্ত্রিক আচরণ, যুদ্ধাপরাধী ও স্বঘোষিত খুনিদের রাজনীতিতে টেনে আনার কাজটি সুচতুরভাবে দক্ষতার সঙ্গে এসব দল করেছে। কিন্তু এসব দলের নেতারা এখন গণতন্ত্রের জন্য ক্রমাগত মায়াকান্না আর সাজানো নাটক করে চলছে। সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ মন্তব্য করেছেন, আইন মানে না বলেই বিএনপি লাগামহীন কথা বলছে। হাছান মাহমুদের ভাষ্য, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কথায় মনে হচ্ছে, আইন-আদালত কোনো কিছুরই দরকার নেই, সরকার চাইলেই খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে পারে। তাহলে সরকারকে জজকোর্ট, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকাও পালন করতে হবে কি-না, এমন প্রশ্ন রাখেন তথ্যমন্ত্রী। আসলে যে, বিএনপি এতো দ্রুত তাদের দলের ও বিএনপি-জামায়াত সরকারের ইতিহাস ও কুকীর্তি ভুলে যাবে এটা কল্পনাই করা যাচ্ছে না। তথ্যমন্ত্রী মানুষের অন্তরের কথাগুলোই বলেছেন।

দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেয়া হবে কি না, তা আইনগতভাবেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। খালেদা জিয়ার জন্য আমি আমার নির্বাহী ক্ষমতা বলে যা করতে পারি তাই করেছি, আইন পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে।”

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৬ এ অংশগ্রহণ এবং লন্ডন ও ফ্রান্সে দু-সপ্তাহের সফর বিষয়ে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়ার বিদেশ গিয়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিএনপি’র দাবির প্রেক্ষিতে একথা বলেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের সামনে এ প্রশ্নটি তুলে বলেন, “আমার কাছে প্রশ্নের উত্তর চান? খালেদা জিয়াকে বাসায় থাকতে দিয়েছি এবং চিকিৎসা করারও সুযোগ দিয়েছি। সেটাই কি বেশি নয়!’

আমরা জানি, শুধু আমরা নয় গোটাবিশ্ব জানে যে, দুর্নীতির মামলায় দণ্ড নিয়ে তিন বছর আগে কারাগারে যাওয়ার পর গত বছর মার্চে করোনাভাইরাসের কারণে সরকার দণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করে খালেদা জিয়াকে কিছু শর্তে সাময়িক মুক্তি দেয়। শর্তানুযায়ী তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না। তবে, তার বাসায় থেকে চিকিৎসা নেয়ার কথা থাকলেও তিনদফায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সর্বশেষ ১৩ নভেম্বর একই হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার তাঁকে হত্যা প্রচেষ্টায় খালেদা জিয়া এবং তার পুত্র তারেক রহমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উত্থাপন করে উল্টো প্রশ্নকারী সাংবাদিককে প্রশ্ন করেন, “আপনাকে কেউ হত্যার চেষ্টা করলে আপনি কি তাকে ফুলের মালা দিয়ে নিয়ে আসতেন? বা আপনার পরিবারকে কেউ হত্যার পর বিচার না করে সেই খুনীদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরী দিয়ে যদি পুরস্কৃত করতো তাহলে কি করতেন?

‘এ সরকার গণতন্ত্রকে বিলীন করে ফেলছে’ – বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, “গণতন্ত্রের নামে যারা নির্বাচন বিমূখ, যারা জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী নয়, যারা ক্ষমতায় থাকাকালে ভোটারবিহীন নির্বাচন করে এবং সোয়া এক কোটি ভূয়াভোটার সৃষ্টি করেছিল – তারাই আবার গণতন্ত্রের কথা বলে!” বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে প্রশ্নে রেখে ওবায়দুল কাদের বলেন, “সব সময়ে শুধু তারা গণতন্ত্রের কথা বলেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে কেন আপনি সংসদে গেলেন না ? জনমতকে অসম্মান কে দেখালো – সরকার না আপনারা?”

ইতিহাস পরিষ্কারভাবে সাক্ষ্য দেয়, এদেশের রাজনীতির ভয়ংকর অন্ধকার অধ্যায়ের সবকটি খারাপ অধ্যায়ই তাদের সৃষ্ট। স্বৈরাচার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ভয়ংকরতা তো ছিল বিএনপির জনক জিয়াউর রহমানের দেখানো পথেই সৃষ্ট।

ধরি ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের কথাই। বাংলাদেশের ইতিহাসে ২১ আগস্ট একটি নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের ভয়াল দিন। ২১ আগস্ট ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী’ সমাবেশে বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী আইভি রহমানসহ ২২ জন নেতা-কর্মী শাহাদাত বরণ করেন। গ্রেনেডের স্পিøন্টারের আঘাতে আহত হন পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী। আহত হন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বহু সাংবাদিক। আহত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী-সমর্থকদের অনেকে এখনও স্প্লিন্টারের আঘাত নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শুন্য করতে সংগঠনের সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ দলের প্রথম সারির জাতীয় নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে ওই ঘৃণ্য হামলা চালায় ঘাতকচক্র। শুধু গ্রেনেড হামলাই নয়, সেদিন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করেও চালানো হয় গুলি। দেশরত্ন শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তিনি আহত হন, তাঁর শ্রবণশক্তি চিরদিনের মতো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল ১৯৭৫-এর ১৫ই আগস্টের কালরাতের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা; সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্ত ও আদর্শের উত্তরসূরি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জঙ্গী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক বিএনপি-জামায়াত অশুভ জোটের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টার-মাইন্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পালাতক আসামীদের দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতায় রাজনৈতিক সমাবেশে যে ধরনের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, তা পৃথিবীর ইতিহাসে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। এরপরও এসব দলের নেতারা গণতন্ত্রের কথা বলে। কী রকম নিষ্ঠুরতা, ফাজলামো। এরচেয়ে লজ্জার কী আছে আর?

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

সর্বাধিক পঠিত