প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি: আরও কতোজন মোছা. কামরুন্নাহার বিচার বিভাগে বসে আছেন?

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি: রোম যখন পুড়ছিলো, নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিলো। জেনে রাখেন- আপনারা যখন বিশ্বকাপ ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে নাচছিলেন ঠিক সেদিনই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৭-এর এবং রেইনট্রি রেপ মামলার বিচারক মোছা. কামরুন্নাহারকে আদালতে না বসার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। তাকে আদালত থেকে প্রত্যাহার করে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করতেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই বিচারপতি যে রায়টা দিয়েছিলেন সেটা পুনর্বিবেচনা করা হবে কি? নাকি ক্রিকেটের উন্মাদনায় কবর দেবেন এই রায়ের ব্যাপারটা? রেইনট্রি ধর্ষণ মামলার আসামিদের সরাসরি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী থাকলেও এই বিচারকের আদালত জানিয়েছিলো, পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ না থাকায় আসামিরা খালাস পাচ্ছেন। আমি আইনি ব্যাপারস্যাপার না বুঝলেও এটা বুঝি যে সরাসরি আসামিদের স্বীকারোক্তি থাকলেও তিনি বলেছিলেন ঘটনার ৩৮ দিন পরে বাদীপক্ষ মামলা করায় মেডিকেল এভিডেন্স পাওয়া যায়নি, এই মামলায় আদালতের ৯৪ কার্যদিবস নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেছিলেন, রেপের ৭২ ঘণ্টা পরে মামলা না নিতে।
১৬৪ ধারায় একজন রেপের মামলার আসামি সাক্ষ্য দেওয়ার পরে আদালত সেই সাক্ষ্যকেও ‘অসত্য’ বলেছেন কীভাবে তাও জানি না, কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, জবানবন্দী দেওয়ার আগে সাতদিন আসামি পুলিশি হেফাজতে ছিলেন, তাই জবানবন্দী স্বেচ্ছায় দেননি। আমি ঠিক জানি না দুনিয়ায় কোনো রেপ কেসের আসামি পুলিশি হেফাজতে না থেকে স্বপ্রণোদিত হয়ে জবানবন্দী দেন। কখনো খু’নের মামলার আসামি কি আদালতে রিমান্ড ছাড়াই স্বীকার করে? এই অদ্ভুত রায়ের পুনর্বিবেচনা উচ্চ আদালতে হবে কি? মোছা. কামরুন্নাহার না হয় আদালত থেকে প্রত্যাহার হলেন, কিন্তু আরও কতোজন মোছা. কামরুন্নাহার বিচার বিভাগে বসে আছেন? সবচেয়ে হতাশার হলো এখানে আইনমন্ত্রীকে প্রধান বিচারপতি বরাবর চিঠি দিতে হয়েছে। প্রধান বিচারপতি স্বপ্রণোদিত হয়ে এই বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারতেন না কি?
আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না। কেবল ঢুকছে আমাদের আরও অনেক যুদ্ধ বাকি আছে। একজন বিচারককে তার বেফাঁস মন্তব্যের কারণে পদচ্যুত করাই যুদ্ধের সফলতা নয়। সফলতা অনেক দূরের পথ। ভুলে গেলে চলবে না তনুকে আমরা এখনো ভাল্লুকের কামড় থেকে উদ্ধার করতে পারিনি, যেমন উদ্ধার করতে পারিনি সেই বাবা ও মেয়েকে যারা রেপের বিচার হবে না জেনেই ঝাঁপ দিয়েছিলো ট্রেনের তলায়। যেমন উদ্ধার করতে পারিনি এমনকি হাইকোর্টের সামনে জাস্টিসিয়ার ভাস্কর্যকেও। এই যুদ্ধ কেবল রেপের মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে নয়, এই যুদ্ধ সেই সিস্টেমের বিরুদ্ধে যে সিস্টেম রেপ করতে উৎসাহ দেয়, যে সিস্টেমের বিচারক পর্যন্ত পক্ষপাতিত্ব করেন রেপিস্টদেরই ‘ভয় নাই’ জাতীয় উৎসাহ দেয়, যে সিস্টেম নারীর চরিত্র তুলাযন্ত্রে তুলে সতীত্বের সেই ‘গণিমতের মাল’ বিষয়ক ধারণাকে উৎসাহ দেয়, ভিক্টিম ব্লেমিংকেই ন্যায়বিচার বলে চালিয়ে দেয়। আমি কেবল জানতে চাই- বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয় জনগণের ট্যাক্সের টাকায় জনগণকে ন্যায়বিচার দিতে। যে বিচার ব্যবস্থা এ রকম বিচারকের দ্বারা জনগণের ট্যাক্সের টাকা নষ্ট করে, তার বিচার করবে কোন আদালত?

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত