প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পাওনা টাকা চাওয়ায় গম গবেষণার সাবেক প্রধান বিজ্ঞানী আনোয়ার শহীদকে হত্যা: র‌্যাব

মাসুদ আলম: [২] সোমবার সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, রোববার রাতে রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী জাকির হোসেন ও মো. সাইফুলকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

[৩] তিনি আরও বলেন, দিনাজপুরে চাকরির সুবাদে জাকির হোসেনের সঙ্গে বাংলাদেশ গম গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আনোয়ার শহীদের পরিচয় হয়। তিনি অবসরে যাওয়ার পরও তাদের যোগাযোগ ছিল। ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় শহীদের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ধার নেন জাকির। সেই টাকা নিয়েই তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। লেনদেনের বিষয়টি তারা দুজন ছাড়া আর কেউ জানত না। এ সুযোগ নিয়ে ৫/৬ মাস আগে আনোয়ার শহীদকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১১ নভেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর শ্যামলীতে হলি লেন গলিতে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

[৪] আল মঈন বলেন, শহীদ ১৯৯০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দিনাজপুরে কর্মরত ছিলেন। সেখানেই তার সঙ্গে জাকির হোসেনের পরিচয় হয়। এক বছর আগে জাকির তার চালের গোডাউন বন্ধক রেখে ২০ লাখ টাকা লোন পাইয়ে দিতে ভিকটিমের সহযোগিতা চায়। ভিকটিম তাকে সহযোগিতা করতে অপারগতা জানায়। শহীদ বছরখানেক আগে পাওনা ১২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য গ্রেপ্তার জাকিরকে চাপ দেন।

[৫] তিনি বলেন, জাকির হত্যাকাণ্ডের ৩/৪ মাস আগেও একবার শহীদকে তার পরিচিত ধান/চালের চাতাল শ্রমিক মো. সাইফুলকে দিয়ে পরিকল্পনা করে ঢাকায় হত্যার চেষ্টা করেন। সাইফুল এক সময় জাকিরের চালের গোডাউন কাজ করত। ৩/৪ মাস আগে জাকির ঢাকায় আসতে বললে সাইফুল ঢাকায় আসে। পরে জাকির সাইফুলকে বলে, একজন লোক আর্থিকভাবে তাকে অনেক বড় ক্ষতি করেছে, তাকে হত্যা করতে হবে। সাইফুল যদি ওই ব্যক্তিকে হত্যা করে তাহলে জাকির সাইফুলকে জায়গাসহ বাড়ি, অর্থ সহায়তা প্রদান করবে এবং আগের দেওয়া টাকা পরিশোধ করতে হবে না।

[৬] তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন জাকির ও সাইফুল দিনাজপুর থেকে ঢাকায় এসে কল্যাণপুরে একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করেন। রাতে জাকির সাইফুলকে ৬০০ টাকা দিয়ে দিনাজপুরে চলে যেতে বলে। নিজেকে সন্দেহ মুক্ত রাখতে ভিকটিমকে দেখতে হাসপাতালেও যায় সে। পরে দিনাজপুরে চলে যায়।

সর্বাধিক পঠিত