প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশ্বে প্রমোদতরী বিক্রি বেড়েছে ৮ শতাংশ

রাশিদ রিয়াজ : কোভিড মহামারী বিশ্বে অধিকাংশ মানুষের জন্যে অর্থনৈতিক সংকট ও দুশ্চিন্তা বয়ে আনলেও ধনীদের ট্রিলিয়ন ডলার আয়ের সুবাদে বিলাসবহুল পণ্য বিক্রি বেড়েছে যার অন্যতম হচ্ছে প্রমোদতরী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এধরনের প্রমোদতরী বিক্রি বৃদ্ধি অবিশ্বাস্য। ৯৮ ফুট দীর্ঘ এমন প্রমোদতরী বিক্রি গত বছরের চেয়ে বেড়েছে ৮ শতাংশ। ২০১৯ সালে ১৬৫টি প্রমোদতরী সাগরে ভাসলেও এবছর ২শ প্রমোদতরী সাগরে এসেছে। আগামী বছর ৩৩০টি প্রমোদতরী তৈরির আদেশ পাওয়ার পর সেগুলো ডকইয়ার্ডে নির্মাণ হচ্ছে। প্রমোদতরী তৈরি করে, স্পেনের এমন এক কোম্পানি এমবি৯২’র চেয়ারম্যান পেপি গ্রাসিয়া বলেন ধনীদের অনেকেই দেখেছেন মহামারীতের তাদের বন্ধুরা নিশ্চিন্তে প্রমোদতরীতে অবকাশ কাটাচ্ছে।

যারা লকডাউনে ঘরে বন্দী ছিলেন তাদের কাছে এটি ঈর্ষার ব্যাপার। গত কয়েক বছর ধরে ধনাঢ্য ব্যক্তিরা প্রমোদতরী সংগ্রহ করেছেন। ব্রোকার কোম্পানি ফ্রাসের ইয়াচ রয়টার্সকে বলছে গত ১২ বছরে বরং চলতি বছরেই উল্লেখযোগ্য পরিমান প্রমোদতরী বেচাকেনা হয়েছে। ৫০ কোটি ডলারে এধরনের একটি প্রমোদতরী কিনে অনেকেই নিজেকে বিশ্বের শীর্ষ ধনী জেফ বেজোস, জ্যাক মা, ডেভিড গেফেনদের কাতারে নিজেকে শামিল করতে পছন্দ করেন। রীতিমত ঘোষণা দেন অনেকে যে তিনি কোভিড মহামারিতে স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন প্রমোদতরীতে। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে এমন অনেক প্রমোদতরীদের তাদের ভেসে বেড়াতে দেখা যায়। গত বছর মার্চ থেকে শীর্ষ ধনীদের আয় ও বিত্ত বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে।

তাদের সম্পদের একটা বিরাট অংশ ব্যয় হয়েছে প্রমোদতরী কিনতে। ব্যাপক সামাজিক লকডাউন ও ঘরে বসে কাজের বিষয়টি ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে অনেক নতুন পণ্যের চাহিদা তৈরি করে। অনলাইন ব্যবসা ফুলে ফেঁপে ওঠে। মাস্ক, পিপিইসহ কোভিডের টিকা ও প্রতিরোধ সরঞ্জাম বিক্রি বেড়ে যায়। এ বছরের এপ্রিলের মধ্যেই অতি ধনীরা ৫ ট্রিলিয়ন ডলার কুক্ষিগত করেন। ফোর্বসের বার্ষিক ধনীদের তালিকায় ৪৯৩ নতুন কোটিপতির নাম উঠেছে।

অক্সফাম বলছে এসব নব্য ধনীর মধ্যে অন্তত ৯ জন এসেছেন কোভিড টিকা গবেষণা বাবদ লাভের বিনিময়ে। রয়টার্স বলছে ইতালীয় প্রমোদতরী প্রস্তুতকার আজিমাত বেনেট্টি বলছেন সবচেয়ে বেশি প্রমোদতরী তৈরির অর্ডার দিয়েছেন মার্কিন ক্রেতারা। তাদের চাহিদা ১.২ বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়েছে। কোভিড মহামারী শুরু হওয়ার ৯ মাসে এবং চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারব্যবসায় লেনদেন করে ৫৬ জন মার্কিন নতুন কোটিপতি হয়েছেন।

ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিস বলছে মার্কিন কোটিপতিরা মহমারীর শুরু থেকে যৌথভাবে নিজেদের সম্পদ ৬২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পেরেছে। এর পরিমান ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। সবচেয়ে এগিয়ে আছেন এলন মাস্ক। তিনি তার সম্পদ বৃদ্ধি করেছেন ৬শ শতাংশ। এর পরিমান দেড়শ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পিতা বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন বলেছিলেন, ‘এই পৃথিবীতে মৃত্যু এবং কর ছাড়া কিছুই নিশ্চিত বলা যায় না’। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ মিলিয়ন মানুষ ঘর ভাড়া দিতে পারছেন না। তাদের বাড়ি ভাড়া কিংবা বাড়ি ক্রয়ের কিস্তি অপরিশোধ থাকায় তা ৭৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে ১.৪ মিলিয়ন মার্কিন নাগরিককে ঘর-বাড়ি থেকে উচ্ছেদের নোটিশ পেতে হবে। ২.৩ মিলিয়ন মানুষ মনে করছে তারা তাদের বসবাসের আশ্রয়টুকু হারাতে যাচ্ছেন। এ সংকট এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ৪৬ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত