শিরোনাম
◈ তৃতীয় দফায় মিসাইল ছুড়ল ইরান, ইসরায়েলজুড়ে বাজলো সাইরেন ◈ জ্বালানি সংকট সামাল দিতে দ্বিগুণ দামে এলএনজি কিনল সরকার ◈ উপসাগরে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা: ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া  ◈ জ্বালানি, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স—যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে অর্থনৈতিক ঝুঁকি ◈ ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা পাচ্ছেন খালেদা জিয়া ◈ জ্বালানি তেল পাচার রোধে বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির নিরাপত্তা জোরদার ◈ আমার ফ্ল্যাট থেকে কয়েক কদম দূরেই ‘যমুনা’, যেখানে ঘটেছে অসংখ্য নাটকীয় ঘটনা: শফিকুল আলম ◈ ঈদকে সামনে রেখে এলিফ্যান্ট রোড ও নিউমার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ◈ ইরান–সংঘাত থামাতে কিছু দেশের মধ্যস্থতার চেষ্টা: পেজেশকিয়ান ◈ জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে আতঙ্ক, যে বার্তা দিলেন জ্বালানিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৫ নভেম্বর, ২০২১, ১২:৪১ রাত
আপডেট : ০৫ নভেম্বর, ২০২১, ১২:৪৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘শুধু ক্রিকেটারদের বলির পাঠা বানালে সামনে আরও খারাপ সময় আসবে’

স্পোর্টস ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আরেকটি ব্যর্থ মিশন শেষ করলো বাংলাদেশ। এবারও মূল পর্বে কোনো জয় নেই। ২০০৭ সালে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছিল। এরপর ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে।

এবার নিজেদের সেরা দল, সেরা প্রস্তুতি ও র‌্যাংকিংয়ে সর্বোচ্চ অবস্থানে থেকে বিশ্বকাপে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে একেবারেই ছন্নছাড়া বাংলাদেশ। ২০২২ সালে আবারও বসবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। হাতে এক বছরও সময় নেই। সেই প্রস্তুতি এখন থেকে নিতে হবে এমন কথা বললেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। সঙ্গে জানালেন, সঠিক প্রক্রিয়া, যথাযথ পরিচর্যা ও দায়িত্বশীল কাউকে দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে দলকে।

নিজের ফেসবুকে মাশরাফি লিখেছেন, ‘আরও একটি বিশ্বকাপ শেষ হলো। ৮ ম্যাচ খেলেছি, ২টি জয়, ৬টি হার…

প্রথমেই বলে নেই, ক্রিকেটারদের দায় কোনোভাবেই এড়ানোর উপায় নেই। বিশেষ করে, যেভাবে আমরা হেরেছি। এত বাজে খেলার পর ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়ানো কঠিন। তবে, আমার অনুভূতি তো আমার মতো করেই। আমি বিশ্বাস করি, ওরা হয়তো খুব দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে ইনশাল্লাহ।

ঠিক এই মুহূর্তে ক্রিকেটারদের উচিত ধৈর্য ধরা ও সঠিক প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা। কোনো সমালোচনার জবাব দেওয়া উচিত নয়। আশা করি, তারা বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারবে এবং সঠিক কাজটি করবে।

তবে কিছু ব্যাপার মেলানো প্রয়োজন। সেটা হলো, খারাপ হওয়ার প্রথম দায় অবশ্যই ক্রিকেটারদের। এরপর আর কি কারও দায় নেই? শুধু ক্রিকেটারদের ঘাড়ে চাপিয়ে যদি শেষ করেন, তাহলে মনে রাখবেন, আরও খারাপ সময় অপেক্ষা করছে। প্রমাণ তো আগেও অহরহ দেখা গেছে!

আগের অভিজ্ঞতা থেকে এবারও বলে দেওয়া যায়, এখন সামনে কী হবে। হয়তো কাউকে বাদ দেওয়া হবে, কারও ওপর অদৃশ্য রাগ ঝাড়া হবে, রিয়াদকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হবে। সমর্থকরা যে ক্রিকেটারকে পছন্দ করছে না, তার ওপর ঝাল মিটিয়ে সমর্থকদের শান্ত করা হবে। সাংবাদিক ভাইদের নানা কিছু বোঝানোর চেষ্টা করা হবে।

আগেও দেখেছি যে, এসব করে একেকটা পক্ষ দাঁড় করানো হয় এবং বোঝানোর চেষ্টা করা হয় যে, সামনের বিশ্বকাপে সব ঠিক হয়ে যাবে। আমরাও ভাই আবেগি মানুষ, এসব দখে সব ভুলে আশা নিয়ে সামনে তাকিয়ে থাকব। এরপর বিশ্বকাপ আসবে, দেখা যাবে একই ফলের পুনরাবৃত্তি!

তাই, ক্রিকেটারদের দায় দিন, ভালো কথা। সেটা তাদের প্রাপ্য। পাশাপাশি, নিজেরাও বোঝার চেষ্টা করুন যে আপনারাও ব্যর্থ! কারণ, এই পুরো প্রক্রিয়ার অংশ আপনারাও।

আপনারা অন্যান্যবারের মতো বলতেই পারেন, 'অমুকের জন্য পারিনি, তমুক ব্যর্থ হয়েছে, এজন্যই পারলাম না।' সেক্ষেত্রে তো দায়টা আপনাদেরও, কারণ উপযুক্ত বিকল্প আপনারা তৈরি করতে পারেননি। সেই দায়িত্ব তো আপনাদের কাঁধেই ছিল, আপনাদের তো আগেই বোঝা উচিত ছিল! আপনারা সেটা পারেননি।

তাই দয়া করে, সত্যকে আলিঙ্গন করুন এবং নতুনভাবে কাজ শুরু করুন।

সামনে আরেকটি বিশ্বকাপের দোহাই দিয়ে, ক্রিকেটারদের ক্ষতি না করে প্রক্রিয়াটা ঠিক করুন। দেখবেন, তখন দল আপনা আপনি ভালো খেলবে। দলকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব আপনাদেরই। তাই দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে দায়িত্ব নিয়েই কথা বলা বা কাজ আমরা আশা করি।

সবচেয়ে বড় শঙ্কা আমি যা দেখছি, ক্রিকেটারদের বলির পাঠা বানিয়ে সবাইকে দেখিয়ে দেওয়া হবে যে, 'আমরা অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা সামনের বিশ্বকাপে বড় ভূমিকা রাখবে।' আসলে এতে ক্রিকেটের কোনো লাভ হবে না। ক্রিকেটার তৈরি ও গড়ে তুলতে আধুনিক ক্রিকেটে প্রক্রিয়াগুলো দেখুন এবং সেগুলো দেশের ক্রিকেটে অ্যাপ্লাই করুন। তাদেরকে যত্ন করুন, হয়তো তারা সামনের পথচলায় আমাদের দারুণ সব মুহূর্ত উপহার দেবে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে। কারণ একজন প্রপার খেলোয়াড় তৈরি করতে অনেক সময় লাগে। সবাই না বুঝলেও, ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট লোকদের এসব বোঝা উচিত। তাই সময় লাগুক, কিন্তু প্রক্রিয়া নতুন করে সাজান। ত্বরিত সিদ্ধান্ত খুব বেশি কাজে দেবে না।

দয়া করে এই কথা বলবেন না যে, '২০২২ বা ২০২৩ বিশ্বকাপে এদের দিয়ে হবে না, তাই সব নতুন সুযোগ দিতে হবে।' নতুনদের সুযোগ অবশ্যই দিতে হবে, তবে তাদের তৈরি করে। আমরা আপনাদের সঙ্গেই আছি, কারণ আমাদের শরীরের প্রতিটি রক্ত কনিকায় শুধু ক্রিকেটই বসবাস করে।

দয়া করে কেউ পারসোনালি নেবেন না আশা করি। দূরে থেকেও আমরা আপনাদের শুভাকাঙ্ক্ষী । আজীবনই তা থাকব।’

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়