প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রভাষ আমিন: জয়-পরাজয় শেষ কথা নয়, খেলা থাকুক মাঠে

প্রভাষ আমিন
বাংলাদেশ শূন্য প্রস্তুতি কিন্তু পূর্ণ প্রস্তুতির আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে নিজেদের বানানো ফাঁপা আত্মবিশ্বাসের ফাঁদে পড়েছে। দল গঠন নিয়েও অনেক কথা আছে। সেরা ওপেনারকে দেশে রেখেই বিশ্বকাপ খেলতে গেছে বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল মুখে যাই বলুন, মান বাঁচাতেই নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন তিনি। বিশ্বকাপ প্রস্তুতির কথা বলে আইপিএল খেলতে গিয়েছিলেন সাকিব আর মোস্তাফিজ। সাকিব ব্যক্তিগত অনেক কিছু পেলেও দলের মান তাতে বাঁচেনি। বিশ্বকাপে কোনো প্রস্তুতিই কাজে লাগছে না। কোনো কিছুই ঠিকমতো হচ্ছে না। যেদিন ব্যাটিং ঠিক হয়, সেদিন বোলিং যা-তা। বোলিং ঠিক হলে ব্যাটাররা ব্যাট করতে ভুলে যান। আর বাংলাদেশের ফিল্ডিং নিয়ে একটা ডকুমেন্টারি হতে পারে। বিশ্বকাপে একটা দলের ফিল্ডিং কতো খারাপ হতে পারে, সেই ডকুমেন্টারি থাকবে তার উদাহরণ হয়ে। বাছাই পর্ব মিলিয়ে ৬ ম্যাচে ১২টি ক্যাচ ফেলেছে বাংলাদেশ। অন্তত দুটি ম্যাচ হেরেছে ক্যাচ ড্রপ করে। রানআউট, স্ট্যাম্পিং মিস তো আছেই। এতো সমস্যা রেখে সেমিফাইনালের স্বপ্ন দেখে বোকারা। আমি অত বোকা নই।

তবে এবারের বিশ্বকাপে খেলার চেয়ে ধুলা উড়েছে বেশি। ব্যাট-বলের লড়াইয়ের চেয়ে কথার লড়াই বেশি জমজমাট। প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে হারার পর নাজমুল হাসান পাপন বিসিবি সভাপতি থেকে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ বনে গেলেন। নাম উল্লেখ করে সিনিয়রদের দুষলেন। নিজে কোনোদিন ক্রিকেট না খেললেও ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। পরে লিটনের ক্যাচ ড্রপ করা নিয়ে বললেন, এই ক্যাচ তিনিও ধরতে পারতেন। বোর্ড সভাপতির আক্রমণের তীর যে ক্রিকেটারদের কষ্ট দিয়েছে গোপন করেননি মাহমুদউল্লাহ। পাল্টা নিজেদের কষ্টের কথা বলেছেন। মুশফিক সমালোচকদের আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখতে বলেছেন। আর এই কথার আগুনে ঘি ঢেলেছেন সাকিবের স্ত্রী শিশির। ফেসবুকে তিনি অতীতের কাসুন্দি টেনে তামিম আর মাশরাফিকে একহাত নিয়েছেন। এটা কি শিশিরের কথা নাকি সাকিব তার কথা শিশিরকে দিয়ে বলাচ্ছেন, কে জানে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন এক অশান্ত সংসার। বিশ্বকাপ ব্যর্থতার জন্য ক্রিকেটারদের দায় তার চেয়ে বেশি দায় বোর্ড প্রধানের অতিকথন। জয়ের চেয়ে স্বস্তি আর শৃঙ্খলা গুরুত্বপূর্ণ।

এবার আমাদের একটা দায়ের কথা বলে লেখাটা শেষ করছি। সাম্প্রদায়িকতার বিষ এখন ছড়িয়েছে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। আমাদের অনেকের মনে ও মননে সাম্প্রদায়িক আবর্জনায় ঠাসা। দলে কেউ খারাপ খেললে আমরা তার সমালোচনা করি, গালি দিই। সেটা তামিম হলেও দিই, সৌম্য হলেও দিই। কিন্তু কারও ব্যর্থতার জন্য তার ধর্মকে টেনে আনাটা জঘন্য সাম্প্রদায়িকতা। লিটন দাসের দুটি ক্যাচ ড্রপে ইংল্যান্ডের কাছে বাংলাদেশ হেরেছে। এজন্য আমরা সবাই ক্ষুব্ধ। কিন্তু এ ব্যর্থতার জন্য তাকে ‘মালাউনের বাচ্চা’ বা ‘ইন্ডিয়ার দালাল’ বলাটা আমাদের জন্য লজ্জা। যারা ধর্মকে খেলা পর্যন্ত টেনে আনে তারা প্রকৃত ধার্মিক নন। তারাই ধর্মান্ধ, তারাই সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়ে ইসলামকে খাটো করে। মাঝে মাঝে সৌম্যকেও এই গালি শুনতে হয়। শুধু বাংলাদেশ নয়, সাম্প্রদায়িকতার বিষ ভারতে আরও বেশি বিষাক্ত। পাকিস্তানের কাছে হারার পর মোহাম্মদ শামীকেও ‘পাকিস্তানের দালাল’ বলে। জয়-পরাজয় শেষ কথা নয়। খেলা থাকুক মাঠে। ধর্মকে যেন আমরা মাঠে টেনে না আনি। লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত