মনিরুল ইসলাম : পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে দেশের সড়ক, নৌ ও রেলপথে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। এ সময়ে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করা এবং পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রাহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি।
সোমবার ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও চাঁদামুক্ত করতে সায়দাবাদ বাস টার্মিনালে মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল মালিক ও শ্রমিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় পরিবহন খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এ-সময় শিমুল বিশ্বাস বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহর থেকে লাখো মানুষ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেন। ফলে সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। এই সময় অনেক স্থানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠে, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি বলেন, ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে হলে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে কোনো অসাধু চক্র যাত্রীদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি করতে না পারে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করে যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
শিমুল বিশ্বাস মনে করেন, মালিক-শ্রমিক, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় থাকলে ঈদ যাত্রা অনেক বেশি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করা সম্ভব। এতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।
তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মানুষ যেন শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে পরিবারের কাছে ঈদ উদযাপন করতে যেতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”
সায়দাবাদ আন্তঃজেলা ও নগর বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির আহবায়ক নবী উল্লাহ নবীর সভাপতিত্বে এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার সারওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন, মহাসচিব সাইফুল ইসলামসহ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।