প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] চট্টগ্রামে চোর চক্রের আপন তিনভাইসহ গ্রেপ্তার ৪

রাজু চৌধুরী : [২] সোমবার (২৫ অক্টোবর) পুলিশ জানায়, একটি চুরির মামলার তদন্তে নেমে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

[৩] আরো জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর গভীর রাত অনুমান ০১.০০ টা হতে সকাল অনুমান ০৬.০০ টার মধ্যে যে কোন সময় কোতোয়ালী থানাধীন জামালখান ১/৭ এস.এস খালেদ রোডস্থ এবিসি মাহাবুব হিলস্ নামক ভবনের ৩য় তলার ফ্ল্যাট নং-এফ-২ হতে চোর বা চোরেরা জনৈকা আবরারা বেগম (৭০) এর বাসায় এই চুরি সংঘটিত করে।

[৪] মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আবরারা বেগমের বেডরুমের গ্রীল বাঁকা করে আলমারির ভিতরে থাকা নগদ ৩,০০,০০০/-(তিন লক্ষ) টাকা, অন্য একটি ব্যাগে ৩১০০ ইউএস ডলার যা বাংলাদেশী মুদ্রায় অনুমানিক-২,৪৮,০০০/-টাকা , ৩৫(পয়ত্রিশ) টি ডায়মন্ডের রিং, ৪(চার) জোড়া ডায়মন্ডের কানের দুল, ০৫(পাঁচ) টি ডায়মন্ড মিশানো স্বর্ণের বেসলেট এইসব অলংকারের মূল্য অনুমান ৭,০০,০০০/-(সাত লক্ষ) টাকা, চুরি হয়।

[৫] এই ব্যাপারে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন বলেন, এই চুরির ঘটনায় ওই গৃহের বাসিন্দা আবরারা বেগম (৭০) বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করলে পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৪৫৭/৩৮০ ধারায় ০১টি মামলা রুজু হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বাবলু কুমার পাল সঙ্গীয় অফিসার এসআই মোঃ মোমিনুল হাসান, এএসআই অনুপ কুমার বিশ্বাস এবং সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে কোতোয়ালী থানাধীন পুরাতন বিমান অফিস নাসিমন ভবনের সামনে হতে আসামী ইব্রাহিম খলিল (২৭)কে ১৩ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে পরবর্তীতে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে যে, গত ১১ অক্টোবর সে সহ তার ভাইয়েরা ঘটনাস্থল হতে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও ডলার চুরি করেছে। পরবর্তীতে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

[৬] ওসি নেজাম উদ্দীন আরও বলেন, আসামীরা পেশাদার চোর এবং সংঘবদ্ধ গ্রীল কাটা ও তালা কাটা চোরদলের সক্রিয় সদস্য। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন লোকজনের বাসগৃহের তালা বা জানালার গ্রীল কেটে চুরি করে।আসামী মনির অত্যন্ত শক্তিশালী। সে হাত ও পায়ের সাহায্যে যেকোনো বাসার জানালার গ্রীল বাকা করে ফেলতে পারে। সে ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করে। আটককৃত আসামীদের মধ্যে আপন ৩ ভাই চোর। এই মামলার আরেক আসামী একজন রিক্সাচালক। সে রিক্সায় আসামীদের নিয়ে প্রায় সময়ই রাতের বেলা নগরের বিভিন্ন এলাকায় চুরি করার জন্য ঘুরে।

[৭] পুলিশ জানায়, আসামী মোঃ মঈনুদ্দীন প্রকাশ মনির (৩২) জানালার গ্রীল বাকা করে ঘরের ভিতর ঢুকে চুরির করার সময় সহযোগী আসামী রহিম (৩০) এবং আসামী মোঃ জাহাঙ্গীর (৩০) এলাকায় পাহারা দেয়। মোঃ জাহাঙ্গীর (৩০) এর আগেও ছিনতাইয়ের মামলায় ৮ বছর সাজা ভোগ করে কিছুদিন আগে কারাগার হতে বের হয়। সে কারাগার হতে বের হয়ে চুরির পেশায় জড়িয়ে পড়ে।

[৮] আসামী মোঃ মঈনুদ্দিন প্রকাশ মাইন উদ্দিন প্রকাশ মনির (৩২) কে কোতোয়ালী থানাধীন কাজীর দেউরী এলাকা হতে গ্রেপ্তারের পর। জিজ্ঞাসাবাদে সে নগদ অর্থ ও অলংকার চুরি করার কথা স্বীকার করে এবং জানায়, চোরাইকৃত ডলারগুলোর মধ্যে সে ৩০০ ডলার তার আপন ভাই মোঃ রহিম (৩০) কে ও ৪০০ ডলার আসামী মোঃ জাহাঙ্গীর (৩০) কে দিয়েছে এবং বাকী চোরাইকৃত অলংকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানাধীন তার গ্রামের বাড়িতে তার স্ত্রী মোছাম্মৎ নয়নতারা আক্তার (২১) এর কাছে থেকে উদ্ধার করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

[৯] এইদিকে আসামীদের কাছে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নগদ ১,০৫,০০০/-(এক লক্ষ পাঁচ হাজার) টাকা, ১৫টি ডায়মন্ডের রিং, ০৪ জোড়া ০১টি মোট ০৯টি ডায়মন্ডের কানের দুল, ০২টি ডায়মন্ড মিশানো স্বর্ণের বেসলেট, ০১টি ডায়মন্ড মিশানো শাড়ীর ক্লিপ পরবর্তীতে নগরীর ব্যাটারী গলিস্থ ভাড়া ঘর হতে জাহাঙ্গীর (৩০)কে গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃত তিন আসামীর তথ্যে কোতোয়ালী থানাধীন গোয়ালপাড়া এলাকা থেকে মোঃ রহিম (৩০)কে গ্রেপ্তার করা হয়। মাঈনউদ্দিন কোতোয়ালী থানায় চুরির অপরাধে ২ বার, ছিনতাই ও নারী নির্যাতন করার অপরাধে ২ বার সহ মোট ৪ বার গ্রেপ্তার হয়।

[১০] আসামী রহিম সিএমপি’র চকবাজার থানায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে অবস্থান করাকালীন আগ্নেয়াস্ত্রসহ ১ বার গ্রেপ্তার হয়। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনসহ পৃথক ২টি মামলা আছে।

 

সর্বাধিক পঠিত