প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কলম্বিয়ার ভয়ংকর মাদক সম্রাট দাইরো আন্তেনিও উসুগা গ্রেফতার, মাথার দাম ৫০ কোটি টাকা

রাশিদুল ইসলাম : [২] শনিবার কলম্বিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অ্যান্টিকোয়া প্রদেশের একটি গ্রামীণ এলাকার গোপন আস্তানা থেকে দেশটির সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে দাইরোকে আটক করা হয়। এলাকাটি পানামা সীমান্তের কাছে অবস্থিত। দাইরো কলম্বিয়ার সবচেয়ে বড় অপরাধ চক্রের হোতা। সিএনএন

[৩] ‘অতোনিল’ নামেই অধিক পরিচিত দাইরো। ‘গালফ ক্ল্যান’ নামের মাদক চোরাচালান চক্রের প্রধান তিনি।

[৪] কলম্বিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক দিন ধরে দাইরোকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল। ৫০ বছর বয়সী এ মাদকসম্রাটকে ধরতে কয়েক বছর ধরে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়।

[৫] দাইরোর সন্ধান পেতে কলম্বিয়া আট লাখ ডলার ও যুক্তরাষ্ট্র ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে।

[৬] তবে টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভান দুকে বলেন, এ অভিযানে পুলিশের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

[৭] দাইরোকে আটকের ঘটনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট ইভান দুকে। তিনি বলেন, দাইরোকে ধরতে পারার ঘটনাটি চলতি শতকে কলম্বিয়ায় মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আঘাত।

[৮] অভিযানের পর কলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনী একটি ছবি প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, হাতকড়া লাগানো দাইরোকে ঘিরে রেখেছেন সেনাসদস্যরা।

[৯] ‘গালফ ক্ল্যান’ চক্রটি আগে ‘উসুগা ক্ল্যান’ নামে পরিচিত ছিল। এটি পরিচালনা করতেন দাইরোর ভাই। প্রায় ১০ বছর আগে নতুন বর্ষ বরণের এক অনুষ্ঠানে পুলিশের অভিযানকালে তিনি নিহত হন। ভাই নিহত হওয়ার পর ‘উসুগা ক্ল্যান’ চক্রের দায়িত্ব নেন দাইরো। পরে তিনি চক্রের নাম দেন ‘গালফ ক্ল্যান’।

[১০] ‘গালফ ক্ল্যান’ চক্রটিকে কলম্বিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী অপরাধী সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করে থাকে দেশটির কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এ চক্রটিকে ‘ভারী অস্ত্রে সজ্জিত চরম সহিংস’ একটি গোষ্ঠী বলে অভিহিত করে থাকে।

[১১] বিবিসি অনলাইন জানায়, কলম্বিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে ‘গালফ ক্ল্যান’ চক্রটি সক্রিয়। তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীরও সংযোগ রয়েছে। চক্রটি মাদকের পাশাপাশি মানব পাচার করে থাকে। এ ছাড়া তারা অবৈধভাবে স্বর্ণের খনি খনন করে, চাঁদাবাজিও করে।

[১২] চক্রটির প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন সশস্ত্র সদস্য রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তারা মূলত উগ্র ডানপন্থী আধা সামরিক গোষ্ঠী থেকে সদস্য সংগ্রহ করে থাকে। বিভিন্ন সময় আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, হন্ডুরাস, পেরু, স্পেনে এ চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার হতে দেখা গেছে।

সর্বাধিক পঠিত