প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিরাজ ইসলাম: প্রথম যুগের মুসলিম ইতিহাসে প্রাক-ইসলামী আরব কবিতার প্রভাব

সিরাজ ইসলাম: আমরা লক্ষ্য করেছি, নবীজীবনীর মক্কী অধ্যায় সম্পর্কে তথ্য জানা যায় খুব সামান্যই। তাঁর মদিনাজীবনের কাহিনি অনেকটা জানা যায় মাঘাযি সাহিত্যের মাধ্যমে। মাঘাযি হচ্ছে ভাবোচ্ছ¡সিত কাব্যাকারে বিধৃত মুহম্মদের যুদ্ধগুলোর বিবরণ। প্রাক-ইসলামী যুগের ‘আইয়াম’ যুদ্ধগাঁথাগুলো নিঃসন্দেহে মাঘাযির শ্লোকগুলোকে প্রভাবিত করেছে। কবিতার ব্যবহার, আত্মপক্ষে অতিরঞ্জনের ছড়াছড়ি, ঘটনার সত্যমিথ্যাগুলোকে স্ব স্ব নির্বাচন অনুযায়ী বর্জন ও সংযোজন, সেইসঙ্গে যুদ্ধের খুঁটিনাটি বর্ণনার প্রবণতা আইয়ামের ন্যায় মাঘাযি সাহিত্যেরও প্রধান বৈশিষ্ট্য। তবে উভয়ের মাঝে মূল তফাৎ হচ্ছে: আইয়ামের কাব্য রচনার তাড়না যেখানে গোত্রীয় অহংকার, সেখানে মাঘাযির প্রেরণা ধর্মানুরাগ ও আধ্যাত্মিক শ্রেষ্ঠত্ববোধ।

মুহম্মদের মদিনাজীবনীর তথা নবীজীবনীর মূল উৎস এই যে মাঘাযি, তার এই ব্যক্তিনিষ্ঠতা, কাব্যিক ভাবালুতা ও ঐতিহাসিক তথ্যগত দুর্বলতার প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে প্রথম যুগের বিখ্যাত ইমাম স্বয়ং আহমদ বিন হান্বাল (৭৮০-৮৫৫) বলেছেন, ‘ইসলামী জ্ঞানের তিনটি শাখা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন: তফসির, মালাহিম (ভবিষ্যদ্বিষয়ক বর্ণনা) ও মাঘাযি।’ এছাড়া আরবদের সহজাত কাব্যপ্রীতির কারণে মাঘাযির পাশাপাশি একইভাবে মুসলিম বিজয়াভিযানের কাহিনি তথা ফুতুহ-সাহিত্যও আইয়ামের প্রভাবাধীন থেকে যায়। প্রাক-ইসলামী আরবি কবিতার বিশেষ প্রভাব দেখা যায় এমনকি আদি তফসির সাহিত্যগুলোতে। আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস ছিলেন সম্ভবত প্রথম মুসলিম পত যিনি কোরআনের ব্যাখ্যায় প্রাচীন আরবি কবিতার সাহায্য নিতেন। যেমন, তাকে প্রায়শ বলতে শোনা যেতো, ‘কোরআনের এ বাক্যের অর্থ এই অথবা ওই…।

তোমরা কি শোনোনি অমুক প্রাচীন আরব কবি বলেছেন…’ ইত্যাদি। এরপর তিনি কবিতাটি আবৃত্তি করতেন। আরেকজন প্রসিদ্ধ বিবরক ও তফসিরকার হচ্ছেন কাতাদা, যিনি সাহিত্য ও প্রাক-ইসলামী আরবি কবিতার ওপর দখলের কারণে সে যুগের তফসির সাহিত্যে পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন। এছাড়া মুসলমান সমাজের সামগ্রিক মনমানসিকতার ওপরও নানাভাবে প্রভাব পড়েছিলো প্রাক-ইসলামী আরবি কবিতার। এক্ষেত্রে বিশেষ ভ‚মিকা রাখতেন রাজসভা কবিরা। এ ধরনের কবিদের একজন উদাহরণ হাম্মাদ আল-রাওয়িয়া, যিনি পরবর্তীকালে নাস্তিকতার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। হাম্মাদ অসংখ্য কবিতা মুখস্থ জানতেন। খলিফা ওয়ালিদ বিন ইয়াযিদ ও আল-মনসুরের দরবারে বসে এই মহান কবি ‘জাহিলিয়া’ কাব্যচর্চায় আত্মোৎসর্গ করেছিলেন। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত