প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পরীমনির মদের লাইসেন্সের ‘মেয়াদ ছিল না’

বিনোদন ডেস্ক: পরীমনির বিরুদ্ধে মাদকের মামলায় আদালতে দেওয়া অভিযোগপত্রে সিআইডি লিখেছে, গ্রেপ্তার হওয়ার অনেক আগে এই চিত্রনায়িকার মদপানের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। তা ছাড়া পরীমনির যে গাড়ি জব্দ করা হয়েছিল, সেটি তিনি ব্যাংক থেকে ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে কিনেছিলেন। প্রথম আলো

গত ৪ আগস্ট পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। পরে র‍্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাঁর কাছ থেকে ১৯ বোতল বিদেশি মদ এবং এলএসডি ও আইস নামের মাদক পাওয়া গেছে। এই মামলায় চার সপ্তাহের বেশি সময় বন্দী থাকার পর জামিনে মুক্ত হন পরীমনি। এর মধ্যে তিন দফায় রিমান্ডে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মাদকের মামলায় এভাবে তাঁকে দফায় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার সমালোচনা করেন অনেকে। পরে উচ্চ আদালতও এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। রিমান্ড মঞ্জুরকারী বিচারকদের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন হাইকোর্ট।

প্রায় দুই মাস তদন্ত করে গত ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমনির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আদালত অভিযোগপত্র দেখেছেন, ১০ অক্টোবর এ বিষয়ে শুনানির দিন রেখেছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, চিত্রনায়িকা পরীমনির বাসা থেকে জব্দ করা মাদকদ্রব্যের বৈধ কোনো কাগজপত্র ছিল না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে সিআইডিকে জানানো হয়েছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পরীমনির নামে মদজাতীয় পানীয় সেবনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। গত বছরের ৩০ জুন ওই লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়। পরীমনি বিভিন্ন স্থান থেকে এই মামলার দুই আসামি আশরাফুল ইসলাম ও কবির হোসেনের মাধ্যমে অবৈধ মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে বাসায় রেখেছিলেন। মাদকদ্রব্য রাখার বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। পরীমনি তাঁর গাড়িটি মাদকদ্রব্য বহনের কাজে ব্যবহার করতেন।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পরীমনির আইনজীবী মজিবুর রহমান বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, সিআইডি তদন্ত করে পরীমনিসহ অন্যদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে, সেখানে কী লেখা হয়েছে, তা এখনো তাঁরা জানেন না।

পরীমনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

পরীমনির বাসা থেকে জব্দ করা মাদকদ্রব্যের রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন বিষয়ে অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাতটি বোতলে রাখা তরল পদার্থের মধ্যে ‘অ্যালকোহল’ রয়েছে। এসব মদে অ্যালকোহলের মাত্রা যথাক্রমে ১৪ দশমিক ২ শতাংশ, ১২ দশমিক ৩ শতাংশ, ১২ দশমিক ৬ শতাংশ, ১১ দশমিক ৭ শতাংশ, ১২ দশমিক ১ শতাংশ, ১৫ দশমিক ২ শতাংশ এবং ১১ দশমিক ২ শতাংশ। এ ছাড়া কাগজের প্যাকেটে রাখা দানাদার পদার্থে ‘মেথামফিটামিন’ রয়েছে। আর ব্লাটার পেপারে ‘এলএসডি’ পাওয়া গেছে।

পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্রে ১৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

ঋণ নিয়ে গাড়ি কেনেন পরীমনি
পরীমনির একটি গাড়ি, পাসপোর্ট, ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ বেশ কিছু আলামত জব্দ করেছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর গাড়িসহ অন্যান্য আলামত পরীমনির জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন আদালত। পরীমনি যে গাড়ির মালিক, সেটি সিআইডি থেকে আলাদা এক প্রতিবেদন দিয়ে জানানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে সিআইডি যেসব কাগজপত্র জমা দিয়েছে সেখানে দেখা গেছে, পরীমনি একটি ব্যাংক থেকে ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে গাড়ি কেনেন। বেসরকারি ওই ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা সিআইডিকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। পরীমনিকে গাড়ি বুঝিয়ে দিলে ব্যাংকের কোনো আপত্তি নেই বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়।

পরীমনির বিরুদ্ধে মামলায় যে অভিযোগ
পরীমনির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলাটি করেছিলেন র‌্যাব-১-এর কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান। মামলায় তিনি লিখেছিলেন, ৪ আগস্ট তিনিসহ র‌্যাব-১-এর সদস্যরা গুলশান-১ গোলচত্বরে অবস্থান করছিলেন। বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, বনানীর একটি বাসায় পরীমনি সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দিপুর মাধ্যমে বিদেশি মদ সংগ্রহ করে নিজের বাসায় মজুত রেখেছেন। তাঁরা বাসায় অবস্থান করছেন। পরে বাসার পঞ্চমতলায় অভিযান চালিয়ে পরীমনির বাসার শয়নকক্ষ থেকে নারী র‌্যাব সদস্যদের সহায়তায় তাঁকে আটক করা হয়। পরীমনির দেখানো মতে শয়নকক্ষের একটি কাঠের ফ্রেমের ভেতর থেকে বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া শয়নকক্ষ থেকে একটি সাদা জিপারে রাখা চার গ্রাম আইস বা ক্রিস্টালমেথ জব্দ করা হয়। এক ব্লট এলএসডি মাদকও জব্দ করা হয়। চিত্রনায়িকা পরীমনির বাসা থেকে বিদেশি মদসহ অন্যান্য মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৭ হাজার টাকা।

মামলায় বলা হয়, পরীমনি এসব মদ কবির নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সংগ্রহ করে বাসায় রাখতেন। ওই মামলায় আবার বলা হয়েছিল, চিত্রনায়িকা পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, তিনি প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের কাছ থেকে মদ সংগ্রহ করতেন। তবে পরীমনি ও আশরাফুল ইসলামের আইনজীবীরা আদালতে বলেছেন, র‌্যাব বাসায় মদ পাওয়ার অভিযোগে যে মামলা করেছে, তা সঠিক নয়।

ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছিলেন—এমন অভিযোগ এনে গত জুন মাসে সাভার থানায় মামলা করেছিলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। ওই মামলায়ও আদালতে অভিযোগপত্র জমা পড়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বোট ক্লাবে মারধর ও শ্লীলতাহানির (যৌন নিপীড়ন) শিকার হয়েছিলেন পরীমনি। তাঁকে মারধর ও যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তাঁর সহযোগী শাহ শহিদুল আলম এবং তুহিন সিদ্দিকী ওরফে অমির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। মামলাটি এখন ঢাকার একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত