প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডেমরায় তিতাস গ্যাসের পাইপে দুই ফিটের বড় ফাটল : জনমনে চরম আতঙ্ক

মো.বশির উদ্দিন : রাজধানীর ডেমরায় ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কের ৬ লেন উন্নয়ন কাজে ভেকু দিয়ে সড়কে গর্ত করার সময় তিতাস গ্যাসের বিতরণ লাইনের পাইপে দুই ফুট পরিমান বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ডেমরার ষ্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এ সময় খুবই বিপদজনকভাবে শো শো শব্দ করে প্রায় ৪ ঘন্টাব্যাপী গ্যাস উদগিরণ হয়েছে। এ ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে কারণ যে কোন সময় বড় ধরনের অগ্নি দুর্ঘটনার আশংকা ছিল। এতে দীর্ঘ ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা-রামপুরা সড়ক বন্ধ হয়ে আড়াই ঘন্টা যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় পরে ডেমরা ট্রাফিক জোনের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিতাস গ্যাসের ঢাকা দক্ষিণ জরুরী বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে কাজ শুরু করেন। প্রথমে ফাটলের জায়গায় ক্ল্যাম্প (ওপরে মেটাল নিচে রাবার) বসিয়ে গ্যাস উদগিরণ বন্ধের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় তিতাসের লোকজন।

পরবর্তীতে ফাটল সৃষ্টি হওয়া পাইপের অংশ কেটে নতুন করে পাইপ স্থাপন করে তিতাস কর্তৃপক্ষ। এ সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিদ্যুৎ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের লোকজন।

সরেজমিন দেখা গেছে, ডেমরার ষ্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় ভেকুর মাধ্যমে সড়কে গর্ত করার সময় তিতাসের পাইপে ফাটল সৃষ্টি হয়ে বিপদজনকভাবে গ্যাস উদগিরণ হচ্ছে। এখানে ৮ ইঞ্চি ৫০ পিএসআইজি সম্পন্ন বিতরণ লাইনের শাখা ৪ ইঞ্চি লাইনের পাইপে দুই ফুটের বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। পরে দীর্ঘ ৭ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে তিতাসের জরুরী বিভাগ সমস্যার সমাধান করেন।

এদিকে এ ঘটনায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন বিভাগের অভিযোগ, ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কের ৬ লেন উন্নয়ন কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা গ্রুপের চরম গাফিলতি রয়েছে। এক্ষেত্রে তিতাস গ্যাসের সঙ্গে সমন্বহীনতার কারণে বারবার ঘটছে দুর্ঘটনা। এ বছরই তৃতীয়বারের মতো ভেকুর মাধ্যমে ঘটল গ্যাসের পাইপে ফাটলের ঘটনা। আর এরকম চলতে থাকলে যে কোন সময় বড় ধরনের অগ্নি দুর্ঘটনাসহ নানা দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে।

এদিকে এ সড়কের নিচে তিতাসের বিতরণ লাইন, ওয়াসা ও বিদ্যুতের বিতরণ লাইন রয়েছে। কারও সাথেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা গ্রুপের সমন্বয় নেই বলে জানা গেছে। যার ফলে সড়কটির কাজও হচ্ছে চরম ধীর গতিতে। এতে মানুষের ভোগান্তি ও বিপদ ক্রমেই বাড়ছে বলে অভিযোগের পাল্লা দিন দিন ভারী হচ্ছে।

তিতাস সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,সাধারণত গ্যাস ফিল্ড থেকে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কে যে গ্যাসের বিতরণ লাইন স্থাপন হয়েছে, এখানে তিতাস গ্যাসের কর্তৃপক্ষের কারণে কোন সমস্যা সৃষ্টি হয়না। তবে সমন্বয়হীনতার কারণে সরকারি যে কোন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজ চলাকালেই গ্যাসের বিতরণ লাইনের পাইপে ফাটলসহ নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়।

এক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষ তিতাসের সঙ্গে সমন্বয় করেনা বলেই প্রতিনিয়ত সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ সড়কটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা গ্রুপের উচিত ছিল প্রথমেই তিতাসের সংশ্লিষ্ট প্ল্যানিং বিভাগ ও পাইপ লাইন স্থাপন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে নকশা সংগ্রহ করে কাজ করা। এতে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কটিতে নিরাপভাবে দ্রুত গতিতে কাজ করা সম্ভব ছিল।

এ বিষয়ে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা গ্রুপের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. সেলিম মোবাইল ফোনে বলেন, গ্যাস বিতরণ পাইপ এত ওপরে রয়েছে আমরা তা বুঝতে পারিনি। তাছাড়া আমরা তিতাসের কাছ থেকে কোন প্রকার নির্দেশনা পাইনি কোথায় কতটুকু গর্ত করে কাজ করব। এক্ষেত্রে আমরার খুবই সাবধান হয়ে কাজ করি, ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতি হয় এমন কাজ আমরা করিনা। আর এ সড়কের অবস্থিত সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কাজ করার চেষ্টা করি।

তিতাসের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অভিযোগ করে বলেন, লাইনে ফাটলের ঘটনা প্রথমবার নয়। এর আগে এ বছরই জানুয়ারী মাসে যাত্রাবাড়ীর কাজলা-ভাঙ্গপ্রেস এলাকায় মাটির নিচে তিতাস পাইপের ৮ ইঞ্চি ৫০ পিএসআইজি বিতরণ লাইনের পাইপে একইভাবে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। গত দেড় মাস আগেও এ সড়কের বামৈল এলাকায় ৩ ইঞ্চি পাইপ ফেটে গ্যাস উদগিরণের অভিযোগ এসেছে জরুরী বিভাগে। এ ঘটনায় খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে লোক পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ডেমরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. ওসমান গনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ঝুঁকিপূর্ণভাবে ফাটল পাইপ থেকে গ্যাস উদগিরণ হচ্ছিল। ভাগ্য ভাল আগুন লাগেনি। আগুন লাগলে ওখানে অবস্থানরত মানুষ ও যানবাহনসহ বিদ্যুতের লাইনের বড় ক্ষতি হয়ে যেত। তবে আমরা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছি তিতাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের পরামর্শ নিয়ে উন্নয়ন কাজ করতে।

এ ঘটনায় ডেমরা ট্রাফিক জোনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, এমনিতেই সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে চরম ধীরগতিতে। তাদের লোকবল কম দেখা যায় সবসময়। তাছাড়া এ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় মেশিন বা যন্ত্রাংশ নিয়ে কাজ করতে দেখা যায়না। তাই সব সময় সুষ্ঠ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হয়। ট্রাফিক সদস্যরা প্রায়ই হিমশিমের মধ্যে থাকে। অধিক রাত পর্যন্ত সসড়কে কাজ করতে হয় ট্রাফিক সেবা দিতে। প্রায়ই সড়কের বিশৃঙ্খলার কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। তারা সমন্বয় করে কোন কাজই করেনা।

এ বিষয়ে তিতাসের জরুরী বিভাগ, ঢাকা দক্ষিণের ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার সাবিউল আউয়াল মোবাইল ফোনে বলেন,ডেমরায় পাইপে ফাটলের ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত লোকজন গিয়ে ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে মেরামতের সমস্ত কাজ সম্পন্ন করা হয়। তবে এক্ষেত্রে সড়ক বিভাগ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তিতাসের সঙ্গে সমন্বয় না রেখে কাজ করে বলে এ ধরনের সমস্যা বারবার হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত