প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিরাপত্তা কখনো কেনা যায় না বললেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

রাশিদ রিয়াজ : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেছেন, নিরাপত্তা যারা অন্য দেশ থেকে কিনতে চায় তাদের বিরাট মূল্য দিতে হয়। বিদেশিদের ওপর ভরসা করে যারা ভাবেন তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত তাদের সেজন্যে কড়া মূল্য দিতে হবে। ইরানের ক্যাডেটদের গ্র্যাজুয়েশন সেরোমনি অনুষ্ঠানে খামেনেয়ী বলেন, নাহজুল বালাগা থেকে হযরত আলীর একটি চিঠির অংশ স্মরণ করে বলেন সেনাবাহিনী হচ্ছে আল্লাহর ইচ্ছার প্রতীক। এবং সেনাবাহিনী হচ্ছে জনতার দুর্গ। এধরনের বিশ্বাস ও আস্থা ইরান সত্যিকার অর্থেই বহন করে।

সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ইরানের নিরাপত্তার অর্থ হচ্ছে প্রগতির পথে সব ধরনের উন্নয়নের মূল অবকাঠামোর নিশ্চয়তা। একারণেই নিরাপত্তা এত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এজন্য অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল নয় বরং নিজেদের চেষ্টায় সে সক্ষমতা অর্জন করতে না পারলে বিদেশি বা পরাশক্তির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা সম্ভব নয়। খামেনেয়ী ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যেকার বর্তমান মতপার্থক্য সম্পর্কে বলেন ন্যাটোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া যদি ইউরোপ নিজেদের চেষ্টায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারত তাহলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হত না। ইউরোপের উন্নত দেশগুলোর নিরাপত্তাও বিদেশি শক্তির হাতে নির্ভরশীল। আর অউন্নত দেশগুলোর নিরাপত্তা যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরশীল। ন্যাটোর নিরাপত্তা ছাতার নিচে অবস্থান করেও ইউরোপের দেশগুলো স্বস্তিতে নিঃশ^াস নিতে পারছে না বলে মন্তব্য করেন খামেনেয়ী।

খামেনেয়ী বলেন আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনী ২০ বছর ধরে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, অপরাধ করেছে, দেশটির সীমিত অবকাঠামো ধংস করেছে, মাদক ব্যবসায় জড়িয়েছে কিন্তু তালিবানের হাতে দেশটি ফেলে রেখে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। তিনি মধ্যপ্রাচ্য কিংবা উপসাগরীয় অঞ্চলে হাজার হাজার মাইল দূর থেকে আসা পরাশক্তি দেশগুলোর সেনাবাহিনীর উপস্থিতির কোনো প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর উচিত নিজেদের সামরিক সক্ষমতা অর্জন করা ও বিদেশি সেনাবাহিনীকে ঢুকতে না দেওয়া। যারা প্রতিবেশি ভ্রাতৃপ্রতীম দেশগুলোর জন্যে গর্ত খুড়বে তারাই সে গর্তে আগে পড়বে বলে বলেন খামেনেয়ী।

সর্বাধিক পঠিত