শিরোনাম
◈ এক বাসায় অনেক পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরাল, ব্যবস্থা চায় বিএনপি ◈ সিম বদল, বাসা বদল, চেহারা পরিবর্তন: আট মাস যেভাবে পালিয়ে ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন ◈ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে বিদেশিদের ভিসা প্রদানে বিশেষ নির্দেশনা জারি ◈ মানিকগঞ্জে হাসপাতালে গৃহবধূকে ধর্ষণ, কারাগারে ২ আনসার সদস্য (ভিডিও) ◈ মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ে ট্রাইব্যুনাল: শেখ হাসিনা খুব সহজেই আন্দোলনের অবসান ঘটাতে পারতেন  ◈ পুলিশকে কুপিয়ে আসামি ছিনিয়ে নিল হামলাকারীরা, আহত ৫ পুলিশ সদস্য ◈ রিকশা–ভ্যান–অটোচালকদের কষ্টের কথা শুনলেন তারেক রহমান ◈ ‘সহায়তা আসছে, বিক্ষোভ চালিয়ে যান,’ ইরানিদের উদ্দেশ্যে বললেন ট্রাম্প ◈ নির্বাচন ও গুম তদন্ত ইস্যুতে জাতিসংঘের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার আলোচনা, চাইলেন সহায়তা ◈ বুধবার ঢাকায় আসছে ফিফা বিশ্বকাপের মূল ট্রফি

প্রকাশিত : ০৫ অক্টোবর, ২০২১, ০১:৪৪ রাত
আপডেট : ০৫ অক্টোবর, ২০২১, ০১:৪৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হযরত উমর (রা.)-এর শাসন আমলের একটি ঘটনা

সংগৃহীত: একদিন দু’জন লোক এক বালককে টেনে ধরে হযরত উমর (রা.) এর দরবারে নিয়ে আসলো। উমর (রা.) তাদের কাছে জানতে চাইলেন, ব্যাপার কী? কেন তোমরা একে এভাবে টেনে এনেছো? তারা বললো, এই বালক আমাদের পিতাকে হত্যা করেছে। উমর (রা.) বালককে বললেন, তুমি কী সত্যিই তাদের পিতাকে হত্যা করেছো? বালকটি বললো, হ্যাঁ! আমি তাদের বাবাকে হত্যা করেছি। তবে তা ছিলো দুর্ঘটনাবশত। আমার উট তাদের বাগানে ঢুকে পড়েছিলো এবং তা দেখে তাদের পিতা একটি পাথর ছুড়ে মারলো, যা উটের চোখে লাগে। আমি দেখতে পাই যে, উটটি খুবই কষ্ট পাচ্ছিলো। যা দেখে আমি রাগান্বিত হই এবং একটি পাথর নিয়ে তার দিকে ছুড়ে মারি। পাথরটি তার মাথায় লাগে এবং সে মারা যায়। উমর (রা.) দু’ভাইকে বললেন, তোমরা কী এ বালককে ক্ষমা করবে? তারা বললো, না! আমরা তার মৃত্যুদ চাই। উমর (রা.) বালকটির কাছে জানতে চাইলেন, তোমার কী কোনো শেষ ইচ্ছা আছে?

বালকটি বললো, ‘আমার পিতা মারা যাওয়ার সময় আমার ছোট ভাইয়ের জন্য কিছু সম্পদ রেখে যান, যা আমি এক জায়গায় লুকিয়ে রেখেছি। আমি তিনদিন সময় চাই, যাতে আমি সেই জিনিসগুলো আমার ভাইকে দিয়ে আসতে পারি। আমার কথা আপনি বিশ্বাস করুন। উমর (রা.) বললেন, আমি তোমাকে বিশ্বাস করতে পারি, যদি তুমি একজন জামিন জোগাড় করতে পারো। যে নিশ্চয়তা দেবে যে তুমি ফিরে আসবে। বালকটি দরবারের চারদিকে তাকালো কিন্তু এতো মানুষের মধ্যে কেউই তার জামিন হলো না। সবাই নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো। হঠাৎ দরবারের পেছন থেকে একটি হাত উঠলো। কার হাত ছিলো এটি? তিনি ছিলেন প্রখ্যাত সাহাবী আবু যর গিফারী (রা.)। তিনি বললেন, আমি তার জামিন হবো। চিন্তা করুন! জামিন মানে হলো, যদি বালকটি ফিরে না আসে তবে আবু যর গিফারীর (রা.) শিরছেদ করা হবে। সুতরাং বালককে ছেড়ে দেওয়া হলো। প্রথম দিন গেলো, দ্বিতীয় দিনেও বালকটি আসলো না।
তৃতীয় দিনে দু’ভাই আবু যর গিফারীর (রা.) কাছে গেলো। আবু যর (রা.) বললেন, আমি মাগরিব পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। মাগরিবের কিছুক্ষণ আগে আবু যর গিফারী (রা.) দরবারের দিকে রওনা হলেন। মদিনার লোকজন তার পেছন পেছন যেতে লাগলো। সবাই দেখতে চায় কী ঘটে আজকে। আবু যর (রা.) একটি বালকের ভুলের কারণে আজ জীবন দিচ্ছেন। হঠাৎ আজানের কিছুক্ষণ আগে বালকটি দৌড়ে আসলো। লোকেরা সবাই অবাক হলো। উমর (রা.) বললেন, হে বালক তুমি কেন ফিরে এসেছো? আমিতো ধরে আনার জন্য তোমার পেছনে কোনো লোক পাঠাইনি। কোন জিনিস তোমাকে ফিরিয়ে আনলো? বালকটি বললো, আমি চাই না যে, কেউ বলুক একজন মুসলিম কথা দিয়েছিলো কিন্তু সে তা রাখেনি। তাই আমি ফিরে এসেছি। উমর (রা.) আবু যরকে (রা.) বললেন, হে আবু যর! তুমি কেন এই বালকের জামিন হলে? আবু যর (রা.) বললেন, আমি দেখলাম একজন মুসলমানের সাহায্য প্রয়োজন। আমি চাই না যে, কেউ বলুক একজন মুসলমানের সাহায্য প্রয়োজন ছিলো কিন্তু কোনো মুসলমান তাকে সাহায্য করেনি। এই কথা শুনে অভিযোগকারী দুই ভাই বললো, আমরাও চাই না যে, কেউ বলুক একজন মুসলমান ক্ষমা চেয়েছিলো কিন্তু অন্য মুসলিম তাকে ক্ষমা করেনি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়