প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রভাষ আমিন: ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান-শেয়ারবাজারে লুটপাট বন্ধ করতে পারলে

প্রভাষ আমিন: এটা ঠিক সঞ্চয়পত্রের সুদ সরকারের ওপর একটা বাড়তি চাপ। কিন্তু রাষ্ট্র তো ব্যবসায়ী নয়। তার অত লাভ-ক্ষতির খতিয়ান মেনে চলা মানায় না। জনস্বার্থে সরকারকে অনেক খাতেই ভর্তুকি দিতে হয়। রেল তো লস, বিমান লস; তাই বলে কি সরকার রেল বা বিমান বন্ধ করে দেবে? সঞ্চয়পত্র করাই হয়েছে নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য; অবসরপ্রাপ্ত মানুষ, নারী, বা প্রতিবন্ধীদের জন্য। কিন্তু উচ্চবিত্ত অনেক মানুষ, যাদের টাকা রাখার জায়গা নেই, তারাও অলস টাকায় সঞ্চয়পত্র কিনে সরকারের কাছ থেকে সুদ নেয়, যাতে সরকারের ওপর চাপ বেড়ে যায়। সরকারের দায়িত্ব কারা সঞ্চয়পত্র কিনছে সেটা মনিটর করা। উচ্চবিত্তের মানুষ যাতে সঞ্চয়পত্র কিনতে না পারে তা নিশ্চিত করা। এটা কিন্তু খুব কঠিন নয়, সঞ্চয়পত্র কিনতে ই-টিন যেহেতু বাধ্যতামূলক, তাই আয়কর বিবরণী দেখেই তার জীবনমান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। তাছাড়া ব্যাংকগুলোও বেশিরভাগ সময় তাদের গ্রাহকদের আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে জানেন। ব্যাংকের হিসাব চেক করলেও সেটা জানা সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশে ঘটে উল্টো ঘটনা। একজন নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ ব্যাংকে গেলে পাত্তাই পাবেন না, তাকে নানান হাইকোর্ট দেখিয়ে নিরুৎসাহিত করা হয়। আর উচ্চবিত্তের কেউ সঞ্চয়পত্র কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করলে ব্যাংকের লোভ প্রয়োজনে তার বাসায় চলে যাবে। তেলা মাথায় তেল দিতে আমাদের কোনো জুড়ি নেই। কদিন আগে দেখলাম ব্যাংকিং আওয়ার শেষ হওয়ার পরও এই প্রভাবশালী গ্রাহককে ব্যাংকের ভল্ট খুলে নগদ ১৯ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। যদিও তার একাউন্টে সে পরিমাণ অর্থ ছিলোই না।

শুধু সঞ্চয়পত্র নয়, ডিপিএসসহ সকল সঞ্চয় প্রকল্পের সুদের হারই কমানো হয়েছে। কোনো কোনো প্রকল্পের সুদের হার এতোটাই কম, মূদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় নিলে ব্যাংকে রাখা অর্থ বরং কমে যায়। তাহলে মানুষ টাকা রাখবে কোথায়? রাখার জায়গা অবশ্য অভাব নেই। কখনো যুবক, কখনো ডেসটিনি, ইউনিপেটু, এহসান গ্রুপ; অধুনা ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জের মতো ই-কমার্স সাইট লোভের ফাঁদ পেতে বসে আছে। লোভে অথবা বাধ্য হয়ে এসব হায় হায় কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে লাখ লাখ মানুষ পথে বসেছে। এখন সরকার বা কেউই এই মানুষদের দায়িত্ব নিচ্ছে না। আর বাকি থাকে শেয়ার বাজার। সাবেক অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত যেটাকে ফাটকাবাজার বলতে ভালোবাসতেন। শেয়ারবাজারে লাভও বেশি, ঝুঁকিও বেশি। শেয়ারবাজার কতো মানুষকে পথের ফকির বানিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। ১৯৯৬ আর ২০১০ সালের মহাধসে লাখ লাখ মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছে। অথচ সরকার অর্থনৈতিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলে; ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান-শেয়ারবাজারে লুটপাট বন্ধ করতে পারলে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার না কমিয়েও মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবেন। পিকে হালদাররা হাজার কোটি টাকা মেরে পালিয়ে যাবে। আর অবসরে যাওয়া নিরীহ মানুষদের টাকা লুটে খাবে ডেসিটিনি আর ইভ্যালিরা। আপনি বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করবেন। বেসরকারি বিনিয়োগে সুশাসন আনতে পারবেন না। শেয়ারবাজারকে যৌক্তিক বানাতে পারবেন না। তাহলে মানুষ যাবেটা কোথায়, টাকাটা রাখবে কোথায়? লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত