প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘ইনস্টাগ্রাম কিডস’ স্থগিত করতে বাধ্য হলো ফেসবুক

প্রযুক্তি ডেস্ক: শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় ‘ইনস্টাগ্রাম কিডস’ প্রজেক্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেসবুক। অভিভাবক, বিশেষজ্ঞ ও নিয়ন্ত্রকদের তরফ থেকে আপত্তি ওঠায় ইনস্টাগ্রাম অ্যাপসের বিশেষ এই সংস্করণ চালুর সিদ্ধান্ত থমকে দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে এই সোস্যাল জায়ান্ট।

ফেসবুকের মতোই ইনস্টাগ্রামেও যোগ দিতে হলে ন্যূনতম বয়স ১৩ বছর হতে হবে বলে নিয়ম আছে। সে কারণে ১০ থেকে ১২ ব্ছর বয়সীদের জন্য ‘ইনস্টাগ্রাম কিডস’ নামে আলাদা একটি সংস্করণ চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল ইনস্টাগ্রামের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান ফেসবুক। এর মধ্যেই ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ফেসবুক পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে আসে এই অ্যাপের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কথা।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অ্যাপ ব্যবহারের ফলে শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মেয়ে শিশুদের মধ্যে নিজের চেহারা ও শারীরিক গঠন নিয়ে আত্মসম্মানবোধের অভাব দেখা দিচ্ছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই ইনস্টাগ্রাম কিডস স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে ফেসবুককে।

‘ইনস্টাগ্রাম কিডস’ স্থগিত করলেও অবশ্য ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি এর পক্ষেই কথা বলছেন। সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক ব্লগ পোস্টে তিনি লিখেছেন, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে ১৩ বছরের কম বয়সী অর্থাৎ ১০ থেকে ১২ বছরের শিশুদের অবশ্যই ছবি শেয়ারের এই অ্যাপে প্রবেশ করা উচিত। তাই তাদের জন্য বিশেষভাবে নতুন সাইট বানানো হচ্ছিল। কিন্তু এখন আপত্তি ওঠায় সে প্রক্রিয়া স্থগিত করা হলো। অভিভাবক, বিশেষজ্ঞ, নীতিমালা প্রণয়নকারী ও নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিশ্চয় এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

এর আগে, মে মাসে আমেরিকার ৪৪ অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা ইনস্টাগ্রাম কিডস প্রজেক্ট না বানানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে। শিশুদের বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চেয়েও ভালো উপায় রয়েছে— এমনটিই দাবি ছিল তাদের। এমনকি আমেরিকান প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের সদস্য ও কংগ্রেসমেনরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন।

সবকিছুর পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টাগ্রাম কিডস স্থগিত করা হলেও সে সিদ্ধান্ত নিয়েও অসন্তোষ জানিয়েছেন অনেকেই। তারা বলছেন— স্থগিত নয়, এই প্রকল্প একেবারেই বাতিল করে দেওয়া উচিত। মার্কিন সিনেটর এড মার্কি এ নিয়ে টুইটে লিখেছেন, “এখানে ‘কিন্তু’, ‘স্থগিত’— এসব শব্দ অপ্রয়োজনীয়। ফেসবুককে অবশ্যই এই উদ্যোগ বাতিল করতে হবে।” ম্যাসাচুসেটস ও নেব্রাস্কার অ্যাটর্নি জেনারেলরাও স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ইনস্টাগ্রাম কিডস চূড়ান্তভাবে বাতিলের পক্ষে মত দিয়েছেন।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ অবশ্য এসব সমালচনা খুব একটা গায়ে মাখছে না। তাদের অভিমত, শিশুরা নানাভাবে ইনস্টাগ্রামসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রয়েছে, যা খুব একটা নিরাপদ নয়। বরং ইনস্টাগ্রাম কিডস তাদের জন্য সহনীয় একটি পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

ইনস্টাগ্রাম কিডস প্রকল্পের সমালোচনাকারীদেরও এক হাত নিয়েছে ইনস্টাগ্রাম প্রধান অ্যাডাম মোসেরি। তিনি বলেন, সমালোচনাকারীরা একে একটি ‘বাজে ধারণা’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শিশুরা এরই মধ্যে নানা মাধ্যমে অনলাইন জগতে বিচরণ করছে। বরং তাদের জন্য বয়সোপযোগী অ্যাপ তৈরি করলেই সেটি তাদের জন্য ভালো হতো। আবার অভিভাবকরাও এখনকার পরিস্থিতি থেকে বেশি নিশ্চিন্ত থাকতে পারতেন।

অন্যান্য ইন্টারনেটভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব, গুগল, টিকটক ইত্যাদির ১৩ বছরের নিচের শিশুদের আলাদা সংস্করল থাকার উদাহরণও টানেন ইনস্টাগ্রাম প্রধান। তার এই বক্তব্য থেকে অনেকেই ধারণা করছেন, আপাতত পিছিয়ে গেলেও সুযোগ বুঝে ‘ইনস্টাগ্রাম কিডস’ হয়তো চালুই করে ফেলবে ফেসবুক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত